• শিরোনাম

    রাজধানীতে মাদ্রাসা ছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ নভেম্বর ২০১৭

    রাজধানীতে মাদ্রাসা ছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

    রাজধানীর গুলিস্তানের আহাদ পুলিশ বক্স সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার ভেতর থেকে আব্দুর রহমান ওরফে জিদান (১২) নামে এক ছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার ভোরে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় একই মাদ্রাসার ছাত্র আবু বকরকে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে।

    শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, বিভিন্ন কারণে জিদানের সঙ্গে আবু বকরের ঝগড়া লেগেই থাকত। এই কারণেই হয়তো তাকে খুন করা হয়েছে। তবে ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকান্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। জিদানের বাবার নাম হাফেজ উদ্দিন। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার জালেরশ্বরে। ময়নাতদন্ত শেষে জিহাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।

    মাদ্রাসার হাফিজি বিভাগের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মইনুদ্দিন জানান, আজ ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তিনি তার কক্ষের পাশের টয়লেটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি টয়লেটের কাছের হাউসের পাশে জিদানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সবাইকে তিনি ডেকে তোলেন। কাছে গিয়ে জিদানকে শ্বাসনালি কাটা অবস্থায় পান। পরে পল্টন থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

    পল্টন থানার এসআই রেজাউল আলম জানান, ওই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ রাফসান ও শিশুপার্ক কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ মোজাম্মেলের সহায়তায় জিদানকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভোর সোয়া ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিদানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জানা গেছে, তিন বছর ধরে গুলিস্তানের আহাদ পুলিশ বক্স সংলগ্ন মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়ছে জিদান। সে কোরআন শরীফের ১৬ পারা মুখস্ত করেছিল। জিদানের বাবার দুই বিয়ে ছিল। প্রথম ঘরে ৩ ভাই ও এক বোন এবং দ্বিতীয় ঘরে দুই ভাই। জিদান দ্বিতীয় ঘরের ছোট ছেলে। তার মা বড় ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওয়ারী থানার বিসিসি রোডে থাকেন হাফেজ উদ্দিন। তিনি শান্তিনগর বাজারে মুরগির ব্যবসা করেন।

    ওই মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ এর নিচে। আবু বকর মাদরাসায় সিনিয়র শিক্ষার্থী হওয়ায় কাউকে মানতো না। একটু বাড়াবাড়ি করত। সবাইকে তার কথা শুনতে বাধ্য করতো। এ বিষয়ে শিক্ষকদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হতো আবু বকর। কোরবানি ঈদের ছুটি শেষে মাদ্রাসায় ফেরার পর আবু বকরের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয়ে বাগবিতন্ডা হতো জিদানের। একবার এই ঝগড়া হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে শিক্ষকরা বিষয়টি সুরাহা করেন।

    তবে শুধু জিদানের সঙ্গেই নয়, গত সপ্তাহে আরো কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল আবু বকরের। ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের কাছে মাফও চান আবু বকর। মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার কথা বলে কাউকে কিছু মনে না রাখার অনুরোধ জানিয়ে সবার কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেয় আবু বকর। গত সপ্তাহ গুলিস্তান থেকে ৮০ টাকা দিয়ে একটি চাকু কিনে আবু বকর। সে ওই চাকু সবাইকে দেখিয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবার রাতে আমিনুল, জিদান (নিহত), রিয়াজ ও ওসমানকে হুমকিও দিয়েছে।

    আজ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল বড় রুমে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। কার্পেটের ওপর বিছানা চাদর বিছানো। মশারিতে রক্ত লেগে আছে। জিদানকে হত্যার পর তার লাশ টেনে নেওয়ায় রক্তের টয়লেট পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, জিদানের দুইজনের পরে ঘুমাতো আবু বকর। সে জিদানের মুখে গাঁথা বুজে চাকু দিয়ে গলায় পোচ দেয়। এ এসয় জিদান আবু বকরের হাত ধরে ফেলে এবং ধস্তাধস্তি করে। পুরো বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীসহ আরেকজন দেখেছে।

    কিন্তু তারা ভয়ে কাউকে কিছু না বলে চুপ করে দেখতে থাকে। এরপর মরদেহ কোলে করে টয়লেটের ম্যানহোলে ফেলে মাদ্রাসার গেটের পাশের বেড়া ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। ওই রুমে মইনু ইসলাম নামে এক শিক্ষক ঘুমাতেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি টের পাননি। ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিক্ষার্থী রাতেই তাকে বিষয়টি জানালে পরে সবাই জানতে পারে।

    এ বিষয়ে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসি ফরিদ উদ্দিন জানান, জিদানকে আবু বকর হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে জানা যায়নি। আবু বকরকে ধরতে পারলে হত্যাকান্ডের কারণ জানা যাবে। আবু বকরের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তার বয়স ১৬। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com