• শিরোনাম

    আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ নভেম্বর ২০১৭

    আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস

    আজ ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্যাপিত হবে। দেশের সকল সেনানিবাস,নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদসমূহে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মোঃ আবদুল হামিদ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী প্রদান করেছেন । আন্তঃ বাহিনী জনংসযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন,আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ২১ নভেম্বর একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তিন বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর উপর সর্বাত্মক আক্রমণ পরিচালনা করে। তাদের সিম্মিলিত আক্রমণে আমাদের কাঙ্খিত বিজয় ত্বরাণিত হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জাতির অহংকার মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতাসহ জাতিগঠনমূলক কর্মকান্ডে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

    কেবল দেশেই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজজ্বল করে চলেছেন। এ দায়িত্ব পালনকালে অনেক সদস্য শাহাদত বরণ করেছেন। সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকার ফোর্সেস গোল২০৩০ প্রণয়ন করেছে। এর ফলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে জনবল, স্থাপনা, আধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচী বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমার বিশ্বাস এসব কর্মসূচী সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও গতিশীল করবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বানীতে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ওবিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়। স্বাধীনতার পর যুদ্ধ- বিধ্বস্ত দেশ পূনর্গঠনের পাশাপাশি জাতির পিতা একটি আধুনিক ও চৌকশ সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনীর জন্য তিনি মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আমর্ড স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং স্কুলসহ আরও অনেক সামরিক প্রতিষ।ঠান এভং ইউনিট গঠন করেন। তিনি চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঘাঁটি ঈসা খাঁ উদ্বোধন করেন।

    বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৎকালীন যুগোশ্লাবিয়া থেকে নৌ বাহিনীর জন্য দুটি জাহাজ সংগ্রহ করেন। যেগুলো প্রায় ৪০ বছর পর আজও চালু আছে। একইভাবে বিমান বাহিনীর জন্য বঙ্গবন।দু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ণ থেকে সুপারসনিক মিগ ২১ বিমানসহ হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও র‌্যাডার সংগ্রহ করেন। জাতির পিতার সার্বিক নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রণীত হয় জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি। এই নীতির আলোকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশঅপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্গোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ আর্তমানবতার সেবা, বেসমারিক প্রশাসনকে সহয়াত এংভ দেশ গঠনমূলক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করছে।

    আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুপস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল আবু এসরার নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুপস্তবক অর্পণ করবেন। তিন বাহিনী প্রধানগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপার্স কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন।

    এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ১০ জন সেনা, ১ জন নৌ এবং ১ জন বিমান বাহিনী সদস্যদের ২০১৬-২০১৭ সালের শান্তিকালীন পদকে এবং ১০ জন সেনা, ২ জন নৌ এবং ২ জন বিমান বাহিনী সদস্যদের ২০১৬-২০১৭ সালের অসামান্য সেবা পদকে ভূষিত করবেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিশেষ সহকারী, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন।

    দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কর্তৃক ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক বৈকালীন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এ সংবর্ধনায় উলে¬খযোগ্য আমন্ত্রিত ব্যক্তিত্বগণের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের ¯পীকার, প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টাগণ, মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ, প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ, ডেপুটি স্পীকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী রাষ্ট্রদূতগণ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণ, বিচারপতিগণ, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিব, মূখ্য সচিব, সংসদ সদস্য (ঢাকা এলাকার এবং প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাগণ), বাহিনীত্রয়ের প্রাক্তন প্রধানগণ, ২০১৭ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত ও একুশে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারীগণ, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/তাঁদের উত্তরাধিকারীগণ, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এবং তিন বাহিনীর চাকুরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ। উক্ত অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি স¤প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

    সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধানগণ নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা,তাঁদের উত্তরাধিকারীদের অনুরূপ সংবর্ধনা প্রদান করবেন। ঢাকা ছাড়াও সাভার, বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা এবং রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসসমূহেও সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।এদিকে, দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা, বরিশাল ও চাঁদপুরে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজসমূহ আজ ২১ নভেম্বর বেলা ২টা হতে বিকাল ৪টা ৩০ পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    ২০ নভেম্বর (সোমবার) সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাত ৯টায় সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘‘বিশেষ অনির্বাণ’’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে। বাংলাদেশ বেতার আজ ২১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ঘ ‘‘বিশেষ দুর্বার’’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com