• শিরোনাম

    তিন বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শতাধিক

    ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াত ঢাবির ৮ শিক্ষার্থীসহ গ্রেফতার ৯

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ নভেম্বর ২০১৭

    ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াত ঢাবির ৮ শিক্ষার্থীসহ গ্রেফতার ৯

    বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াত চক্রের দুই মূল হোতাসহ ৯ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দুই মূল হোতা হচ্ছে-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাভিদ আনজুম তনয় এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এনামুল হক আকাশ। এদের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে ভর্তি হওয়া ঢাবির ৭ শিক্ষার্থীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    সিআইডি’র সিনিয়র এসি (মিডিয়া) শারমিন জাহান জানান, তনয় ও আকাশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থেকে উত্তর বলে দিয়ে এবং পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে ঢাবিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো। এর আগে, ২০ অক্টোবর ঢাবি’র ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অমর একুশে হল ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মহীউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়।

    আদালতে এই দু’জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহ এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মূল হোতা হিসাবে তনয়সহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসে। পরে স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে ১ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিকে আটক করা হয়। নাফির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় চক্রের আরেক হোতা আনিনকে। খবর পেয়ে গা ঢাকা দেয় তনয়। প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ নভেম্বর রংপুরের কামাল কাছনা বাজার এলাকা থেকে তনয়কে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে ডিজিটাল জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিনব সব উপায়ের কথা সে সিআইডিকে জানিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

    তনয় জানিয়েছে, ২০১৫ সাল এবং ২০১৬ সালে টাকার বিনিময়ে ডিজিটাল ডিভাইস এবং পরীক্ষার আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে অবৈধ উপায়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সহায়তা করেছে। তনয়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ঢাবি’র উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে প্রক্টোরিয়াল টিমের সহায়তায় ওইসব অবৈধ উপায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- তানভীর আহমেদ মল্লিক, বায়জিদ, নাহিদ ইফতেখার, ফারদিন আহমেদ সাব্বির. প্রসেনজিৎ দাস, রিফাত হোসাইন এবং আজিজুল হাকিম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    এদিকে প্রশ্নফাঁস ও ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি করে প্রশ্নের উত্তর সমাধানের মাধ্যমে গত তিন বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। প্রত্যেকটি পরীক্ষায় লেনদেন হয়েছে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা। শুধু ঢাবি নয়, সরকারি ব্যাংক নিয়োগে ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে বড় চক্র জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত আমরা শুধু ঢাবি নয়, ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষা ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাতেও জালিয়াতির তথ্য পেয়েছি। সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রত্যেকটি ভর্তি পরীক্ষায় ৪ থেকে ৭ লাখ করে টাকার লেনদেন হয়েছে।

    সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম বলেন, যে কোনো নিয়োগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময় জালিয়াত চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। এসব চক্র পরীক্ষায় জালিয়াতির জন্য মাস্টারকার্ডের মতো দেখতে পাতলা এক ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করছে, যার ভেতরে মোবাইলের সিম থাকে। আর পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীর কানে থাকে অতি ক্ষুদ্র লিসেনিং কিট। এ ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থেকে হলের ভেতরে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তর বলে দেয়া যায়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতিতে সঙ্গে থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১২ সাল থেকে মূলত এ জালিয়াত চক্রটি কাজ করে আসছে। তবে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে শতাধিক ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় বড় একটি চক্রের আমরা সন্ধান পেয়েছি। এ নিয়েও কাজ চলছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com