• শিরোনাম

    হত্যার প্রধান আসামি আবু বকর গ্রেফতার

    অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন হয় মাদ্রাসা ছাত্র জিদান

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ নভেম্বর ২০১৭

    অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন হয় মাদ্রাসা ছাত্র জিদান

    বিভিন্ন সময় জিদানকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল হাফেজ আবু বকর। কিন্তু জিদান এতে রাজি হচ্ছিল না। তাছাড়া, আবু বকর মাদ্রাসায় সিনিয়র ছাত্র হওয়ায় জিদানকে প্রায়ই ব্যক্তিগত কাজ করার আদেশ দিতো। জিদান তাও শুনতো না। একপর্যায়ে তাদের এই মনোমালিন্য মাদ্রাসার হুজুর পর্যন্ত গড়ালে হুজুর আবু বকরকে সর্তক করে দেন। এতে জিদানের ওপর একপ্রকারে ক্ষিপ্তে হয়ে তাকে হত্যা করে আবু বকর। আজ সকালে সদরঘাট থেকে তাকে গ্রেফতার করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে এসব জানায় আবু বকর। গত সোমবার সকালে গুলিস্তান মাদিনাতুল উলূম মাদ্রাসার ভেতর থেকে ১৬ পাড়া কোরআন মুখস্থকারী হেফজ বিভাগের ছাত্র জিদানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাবার নাম হাফিজ উদ্দিন। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। ঘটনার পর থেকে পালাতক থাকে ওই মাদ্রাসারই ছাত্র আবু বকর। তাই হত্যার পেছনে সবাই তাকে সন্দেহ করে।

    র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, একদিন জিদানকে চড় থাপ্পর মারার পর মাদ্রাসার শিক্ষক ইয়াছিন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। পরবর্তীতে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের অপর শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানের সাথে জিদানের ঘনিষ্ঠতা ও চলাফেরা বাড়ে। এতে আবু বকরের মনে চরম ক্ষোভ এবং জিঘাংসার সৃষ্টি হয়। তার সন্দেহ ছিল, জিদানের সাথে আব্দুর রহমানের ‘অনৈতিক’ সর্ম্পক স্থাপিত হয়েছে এবং তার প্রতি চরম প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যাকান্ডটি সংঘটিত করে।

    তিনি জানান, গত ১৬ তারিখে হুজুরের কাছে বিচার দেয়ার পর থেকে আবু বকর জিদানকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। এ লক্ষ্যে আবু বকর রোববার এশার নামাজের পর তার ব্যবহার্য ফল কাটার ছুরিটিত ধার দেয় এবং রাতের বেলায় গলা কেটে লাশ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে। ওই রাতে সবাই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে সে সুযোগের সন্ধানে বিছানায় অপেক্ষারত থাকে। এবং রাত দেড়টায় আবু বকর তার ব্যবহƒত ট্রাংক থেকে ফল কাটার ছুরিটি বের করে জিদানের মুখ চেপে ধরে গলায় পোচ দেয়।

    এ সময় জিদান গোংগানীর শব্দ করলে আবু বকর জোরে তার মুখ চেপে ধরে পুনরায় পোচ দেয়। জিদানের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সে কোলে করে জিদানের মৃতদেহ সেপটিক ট্যাংকের কাছে নিয়ে যায় এবং ভিতরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় মাদ্রাসার ঐ কক্ষটিতে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী শিশু ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। আবু বকরের দেয়া তথ্য মতে ধস্তাধস্তি ও গোংগানীর শব্দে দু একজন জেগে উঠলেও অন্ধকার রুমে মশারী ভিতরে থাকায় এবং ভয়ে কেউ শব্দ করেনি। পরবর্তীতে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক রক্তের দাগের সূত্র ধরে পল্টন থানা পুলিশের সহায়তায় সেপটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com