• শিরোনাম

    ইউরোপ প্রবাসী সন্ত্রাসীর নির্দেশে ব্যবসায়ী সিদ্দিককে হত্যা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭

    ইউরোপ প্রবাসী সন্ত্রাসীর নির্দেশে ব্যবসায়ী সিদ্দিককে হত্যা

    বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পালিয়ে যাওয়া এক প্রবাসী সন্ত্রাসীর নির্দেশে বনানীতে জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক সিদ্দিক হোসেন মুন্সিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন,গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে হেলাল উদ্দিন নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার নেতৃত্বেই ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসাইনকে হত্যা করা হয়েছে।

    মনিরুল ইসলাম বলেন, ইউরোপ প্রবাসী এক সন্ত্রাসী ঢাকায় বন্ধু হেলাল উদ্দিনকে (৩৮) ওই ব্যবসায়ীকে হত্যার নির্দেশ দেয়। পরে হেলাল উদ্দিন কন্ট্রাক্টে ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে। ইউরোপে থাকা প্রবাসী ২০১৩-১৫ সালে দেশে জ্বালাও পোড়াওয়ের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে দেশে অনেক মামলাও আছে। সে সিদ্দিককে হত্যা করতে বন্ধুকে নির্দেশ দেয়। সিদ্দিক ছাত্রদলের মধ্যম সারির নেতা ছিল।

    তিনি আরও বলেন, হত্যাকান্ডে মোট ছয়জন অংশ নেয়। হেলাল ছিল পরিকল্পনাকারী ও অপারেশন কমান্ডার। ঘটনার দিন ভেতরে চারজন প্রবেশ করে। যাদের দুজনের মাস্ক পড়া ছিল, একজনের ক্যাপ পড়া ছিল এবং অন্যজনের মুখে কিছুই ছিল না। তারা হত্যাকান্ডে ২৫ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করে। এরপর তারা বের হয়ে বাইরে থেকে অফিসের দরজা লাগিয়ে চলে যায়। এসময় হেলাল ও তার আরেক সহযোগী বাইরে দাঁড়িয়ে ঘটনা মনিটরিং করে। এছাড়া সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশ নেয় চারজন। তাদের মধ্যে দুজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। তারা হলো- পিচ্চি আল আমিন ও সাদ্দাম। অপর দুই জনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার হেলালকে ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পেলে তাকে এ বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাতে ‘এমএস মুন্সি ওভারসিজ’ নামে রিক্রুটিং এজেন্সিটি’র কর্ণধার সিদ্দিক হোসেন মুন্সিকে গুলি করে হত্যা করে চার মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। এসময় ওই প্রতিষ্ঠানের আরও তিন কর্মকর্তা মির্জা পারভেজ (৩০), মোখলেসুর রহমান (৩৫) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩৯) গুলিবিদ্ধ হন। সিদ্দিকসহ আহদের গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সিদ্দিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এঘটনায় ১৫ নভেম্বর রাতে বনানী থানায় নিহত ব্যবসায়ী সিদ্দিকের স্ত্রী জোৎস্না বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    নিহত সিদ্দিক হোসেন মুন্সি তার স্ত্রী জোসনা বেগম, দুই মেয়ে সাবরিনা সুলতানা ও সাবিহা সিদ্দিক, এবং ছেলে মেহেদী হাসানকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর সড়কে একটি বাসায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত সিদ্দিকের বুকের বামপাশে একটি গুলি ঢুকে পিঠের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। আর একটি গুলি তার বাম হাতে লাগে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি উত্তর তদন্ত করছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে daynightbd.com