• শিরোনাম

    রাজধানীতে ১১ মাসে মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ১৮শ’

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

    রাজধানীতে ১১ মাসে মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ১৮শ’

    রাজধানীতে মাদক ও ইয়াবা বিরোধী অভিযানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পযর্ন্ত বিপুল পরিমান ইয়াবা ও মাদক দ্রব্য উদ্ধারসহ ১৮শ’জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ,বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। সর্বষেশ গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১১২৪ পিস ইয়াবা, ৯১৬ গ্রাম ৮৩৩ পুরিয়া হেরোইন, ৪৫০ গ্রাম ৫০ পুরিয়া গাঁজা ও ৩০টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান. মাদক ও ইয়াবা বহনে নতুন নতুন কৌশল নেয়া হচ্ছে। মাছের পেটে, মরিচের মধ্যে, লাউ, সুপারি ও ফুলের মধ্যে করে ইয়াবা আনছে। এবং মহিলাদের শরীরে বেধে ইয়াবা ও মাদক বহন করা হচ্ছে। এছাড়াও সীমান্ত এলাকা থেকে বিলাস বহুল গাড়ী যোগে ইয়াবা রাজধানীতে আনা হচ্ছে। ওই সব গাড়ীতে অনেক সময় মহিলা যাত্রী রাখা হয়।

    পুলিশের চোখ সাময়িক ফাঁকি দেয়ার জন্য এই কৌশল ব্যবহার করছে ব্যবসায়ীরা। ইয়াবাসহ রাজধানীতে ঢুকছে কারবারিরা। পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে মোটরসাইকেলও। ইয়াবা ও মাদক যাচ্ছে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, পোস্তগোলা, সায়েদাবাদ, ওয়ারী, পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরসহ কয়েকটি এলাকায় হাতবদল হচ্ছে। কোম্পানীর আড়ালে ইয়াবা ও মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করছে ব্যবসায়ীরা।

    পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যম শ্রেণির মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ধরা পড়ে জেলে যাচ্ছে। আবার কিছুদিন পরই আইনের ফাঁক দিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে ফের পুরনো ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু বরাবরই অধরা থাকছেন ইয়াবা ব্যবসার নেপথ্যের গডফাদাররা। ইয়াবা ও মাদক-বাণিজ্যের সঙ্গে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত এসব গডফাদার রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের আটকের সাহস পাচ্ছেন না। এ কারণে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধের বদলে দিন দিন ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

    গোয়েন্দা সুত্র জানান, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। নেপথ্য কারণ সাধারণত ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সন্তানরা ইংলিশ মিডিয়াম ও বেসরকারি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। তাদের অনেকের হাতেই থাকে প্রচুর টাকা থাকে। প্রাচ্যাত্যের ঢংয়ে মর্ডানা ইজেশনের নামে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থী বখাটে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন আসক্ত হয়। প্রথমে বিনা পয়সায়, পরে টাকা দিয়ে এবং একপর্যায়ে চরম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে যে কোনো উপায়ে ইয়াবা সেবনের জন্য টাকার জোগাড় করতে উন্মাদ হয়ে পরে ইয়াবা সেবিরা।

    এবিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ইয়াবা ও মাদকদ্রব্যের কারবার বা রুট বন্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। এছাড়াও মাদক বিরোধী অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাবও কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com