• শিরোনাম

    মুক্তামনির হাতে আবারও ব্যান্ডেজ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

    মুক্তামনির হাতে আবারও ব্যান্ডেজ

    রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির হাতে আবারও ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ডাক্তার বিউটি আক্তার তার হাতে ব্যান্ডেজ করেন। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা.সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তামনির হাতে ড্রেসিং করে আমরা প্রেসার ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি। তার অবস্থা কয়েকদিন দেখতে হবে। এরপর পরবর্তী অবস্থা বলা যাবে।

    মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন জানান, মুক্তামনির অবস্থা আগের মতোই। তার হাতে ব্যথা আছে। ডাক্তাররা বলেছে, যেহেতু ওর হাতে প্রেসার ব্যান্ডেজ করা হয়েছে, তাই প্রথম প্রথম অস্বস্তি তো লাগবেই। পরে এটা কমে আসবে। ডাক্তার বিউটি জানান, মুক্তামনিকে ব্যান্ডেজ দেওয়ার পর আরও দু’দিন দেখবে ডাক্তাররা। এরপর তাকে বাড়ি যাবার জন্য রিলিজ দিতে পারে।

    মেয়ের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন। তিনি জানান, মুক্তামনির বয়স যখন দেড় বছর, তখন ডান হাতে একটি টিউমারের মতো হয়। পরে তা ফুলে যেতে থাকে। পুরো ডান হাতটি ফুলে বালিশের মতো হয়ে যায়। ওই হাত থেকে দুর্গন্ধও বের হতে থাকে। রোগটি তার বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলে মুক্তামনির বিষয়টি সবার নজরে আসে।

    উল্লেখ্য, এবছরের ১১ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয় রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত মুক্তামনি। প্রথমে তার রোগটিকে বিরল রোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে বায়োপসি করে জানা যায়, তার রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে। তখন তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। মুক্তামনির সব রিপোর্ট দেখে তারা চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ঢামেকের চিকিৎসকরাই তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। রোগ শনাক্ত করতে গত ৫ অগাস্ট তার হাতের টিস্যু সংগ্রহ করে বায়োপসি করা হয়।

    গত ৮ অক্টোবর মুক্তামনির হাতে চতুর্থবার অস্ত্রোপচার হয়। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর তৃতীয়, ২৯ অগাস্ট দ্বিতীয় এবং ১২ অগাস্ট প্রথম অস্ত্রোপচার হয়েছিল তার। তার হাতের ফোলা অংশ অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেন চিকিৎসকরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দু’দফায় তার হাতে লাগানো হয়। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ একদল চিকিৎসক মুক্তামনির স্কিন গ্রাফটিং (চামড়া লাগানো) অপারেশনে অংশ নেন। এদিকে, মুক্তামনির চিকিৎসার সব ধরনের খরচের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com