• শিরোনাম

    নিউইয়র্কে আটক আকাইদের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

    নিউইয়র্কে আটক আকাইদের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ

    নিউইয়র্কের ম্যানহাটন বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুইসহ তার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আজ মঙ্গলবার বিকাল সোয়া তিনটার দিকে রাজধানীর জিগাতলার মনশ্বের রোডরে একটি বাসা থেকে তিনি তার বাবা অর্থাৎ আকায়দের শ্বশুর জুলফিকার হায়দার ও মা মাহফুজা আক্তারকে (আকায়েদের শাশুড়ি) সঙ্গে নিয়ে মিন্টো রোড সিটিটিসি কার্যালয়ে আসেন। আমরা আকায়েদের স্ত্রীর কাছ থেকে মূলত আকায়েদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচ্ছি।

    সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আকায়েদ জড়িত কি জড়িত না সে বিষয়ে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আকায়েদ কীভাবে বড় হয়েছে, কোথায় পড়াশুনা করেছে আমরা এসব জানার চেষ্টা করছি। এছাড়াও আকায়েদ যে নিউইয়র্কে হামলা চালাবে পরিবার তা জানতো কি না এ বিষয়ে তার স্ত্রীর কাছে আমরা জানতে চাওয়া হয়। বিকালে ৫ টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত করা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গত বছর জুইয়ের সঙ্গে আকায়েদের বিয়ে হয়। এ বছরের ১০ জুন সন্তানের জনক হন আকায়েদ। সন্তান হওয়ার খবর পেয়ে এ বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে এসেছিলেন। এক মাস অবস্থানের পর ২২ অক্টোবর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।

    আকায়েদ উল্লাহর শ্যালক হাফিজ মাহমুদ বলেন, এ বছর আকায়েদ দেশে আসার পর তার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তবে তারা ঘূর্ণাক্ষরেও টের পাননি সে অন্য কোনোদিকে মোটিভেটেড হয়েছে কিনা। সে সাধারণ মুসুল্লির মতো মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত বলেও জানান তিনি।

    এদিকে আটক বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহ সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামের বাড়ি সদ্বীপের মুসাপুরে এসেছিল বলে জানিয়েছেন তার চাচাতো ভাই সোহরাব। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে সে একবার দেশে এসেছিল। তবে কি কারণে এসেছিল তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে কেউ বলছেন অসুস্থ নানীকে দেখতে আবার কেউ কেউ বলছেন নিজের সন্তানকে দেখতে আকায়েদ দেশে এসেছিল।

    সোহরাব বলেন, আমার চাচা (সানাউল্লাহ) ঢাকার হাজারীবাগে থাকতেন। সেখানে চাচা একটি মুদি দোকান চালাতেন। সেখান থেকে তারা আমেরিকা গেছেন। আকায়েদ আমাদের চাচাতো ভাই। ওরা ঢাকা থাকতো, গ্রমে তেমন একটা আসতো না। ছোটবেলাতেই ওরা ঢাকা চলে যায়। যোগাযোগ তেমন একটা নাই, আসা-যাওয়া নাই। তাই আমরা খুব বেশি কিছু জানি না। তিনি বলেন, আকায়েদরা চার ভাইবোন। সে বিয়ে করছে চাঁদপুরে। বিয়ের পরে আমরা জানতে পেরেছি এ কথা। তার একটি ছেলে আছে বলে শুনেছি। তবে ছেলের বয়স কতদিন তা বলতে পারি না। তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িও চাঁদপুরে।

    জানা গেছে, আকায়েদের বাড়ি সদ্বীপের মুসাপুর ইউনিয়নে। তাদের বাড়িটি ভুটান বা বোতান তালুকদারের বাড়ি হিসেবে পরিচিত। আর নানাবাড়ি সদ্বীপের গাছুয়া আলম ডাক্তারের বাড়ি। সেখানে এখন শুধু তার খালু তুসান কোম্পানি থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, আকায়েদ উল্লাহ গত বছরের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলায় বিয়ে করেন। তার শ্বশুর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের একটি দোকানে কাজ করেন।

    জিগাতলার যে বাড়িতে তারা ভাড়া থাকেন, সেই বাড়ির মালিক রহিমা ইসলাম। তিনি বলেন, ওই পরিবারটি ১৯৯৭ সাল থেকে ভাড়া থাকে। ওই পরিবার খুব বেশি সচ্ছল নয়। গত বছর তাদের সিটি কলেজে পড়ুয়া মেয়ের বিয়ে হয় আকায়েদের সঙ্গে। বিয়ের পর এ বছর জুনে একটি ছেলেসন্তান হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে আকায়েদ এখানে এসে এক মাস ছিলেন। ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আকায়েদের আচরণ ভালো ছিল।

    উল্লেখ্য, সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কাছে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটে। এর সঙ্গে আকায়েদ উল্লাহ নামে এক বাংলাদেশি যুবকের সংশ্লিষ্টতা পায় নিউ ইয়র্ক পুলিশ। বিস্ফোরণে তার শরীর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জখম হয়েছে। এখন তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। আকায়েদের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সদ্বীপে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। পরে আকায়েদ স্থায়ী মার্কিন অধিবাসী হিসেবে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করে। সেখানে ড্রাইভিংয়ের কাজ করতো সে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com