• শিরোনাম

    বাংলাদেশে আকায়েদের উগ্রবাদে সংশ্লিষ্টতার রেকর্ড নেই-পুলিশ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

    বাংলাদেশে আকায়েদের উগ্রবাদে সংশ্লিষ্টতার রেকর্ড নেই-পুলিশ

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বোমা হামলার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহর (২৭) উগ্রবাদের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, আকায়েদ আমেরিকায় গিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উগ্রবাদে জড়িয়ে থাকতে পারেন। তবে দেশে সে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    নিউইয়র্কের বাস টার্মিনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা বাংলাদেশি যুবক আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িকে রাজধানীর বাসা থেকে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদের একদিন বাদে গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এসব কথা বলেন, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসির) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আকায়েদ বাংলাদেশে থাকার সময় তার সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। তাই ধারণা করা হচ্ছে, সে নিউ ইয়র্কেই জঙ্গিবাদে ‘হোম গ্রোন’ হয়েছে। হয়তো আমেরিকায় গিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে দেশে সে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটিটিসির প্রধান।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, জিরো টলারেন্সের বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এমন কর্মকান্ড দুশ্চিন্তার বিষয়। তাই এই ঘটনা অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে। যদি তারা আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগাযোগ করে সহায়তা চায় তবে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। কাজী নাফিস নামে একজন বাংলাদেশি আমেরিকায় উগ্রবাদের সংশ্লিষ্টতায় আটক হয়েছিল সেই তথ্য টেনে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, কাজী নাফিসের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য ছিল, সে যেসব মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা করতো তারা হিজবুত তাহেরীর ও আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে আকায়েদের সম্পর্কে বাংলাদেশে এমন কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

    আকায়েদ কিভাবে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, সে বিকারগ্রস্থ ছিলো কি না বা কারও দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে কি না সেটি ওই দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আমরা তার স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিলাম, তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্তের প্রয়োজনে আবারও তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে আকাইদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই জানিয়েছে, বিয়ের পর আকায়েদ তাকে জঙ্গি নেতা জসিমউদ্দিন রহমানীর বিভিন্ন বই পড়তে বলতো। কিন্তু সে সেটা পড়েনি।

    মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা জেনেছি আকায়েদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সদ্বীপে। সেখানে থেকে তারা ঢাকায় এসে বসতি স্থাপন করে। আকায়েদের বাবা সানাউল্লাহ অনেক আগে তার মামার সঙ্গে আমেরিকায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ব্যবসা করেন। সে সময় আকায়েদ ঢাকার সিটি কলেজে বিবিএ পড়তো। পরে ২০১১ সালে সানাউল্লাহ তার পুরো পরিবারকে আমেরিকায় নিয়ে যান।

    এদিকে মার্কিন প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত সোমবার সকালে ম্যানহাটন পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান আকায়েদ উল্লাহ। এতে তিনি নিজে এবং আরো তিনজন আহত হন। গত মঙ্গলবার প্রসিকিউশন আকায়েদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ দায়ের করে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা দেয়া এবং জনবহুল এলাকায় অস্ত্র ও বোমার ব্যবহার। আকায়েদ বাংলাদেশি। ২০১১ সালে অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন আকায়েদ। নিউইয়র্কে ভাড়ায় গাড়ি চালাতেন তিনি। তবে সম্প্রতি তার লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়।

    এর মধ্যেই মঙ্গলবার রাজধানীর জিগাতলায় মনেশ্বর রোডের একটি বাসা থেকে আকায়েদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই, শ্বশুর জুলফিকার হায়দার ও শাশুড়ি মাহফুজা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসেন সিটিটিসি সদস্যরা। জানা গেছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করেন আকায়েদ। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। চলতি বছর ১০ জুন সন্তানের জন্ম দেন জুঁই। সন্তানকে দেখতে গত ২২ সেপ্টেম্বর আকায়েদ বাংলাদেশে এসেছিলেন। এরপর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। নিউইয়র্কে ব্রুকলিনে পরিবারের সঙ্গে থাকেন মার্কিন গ্রিনকার্ডধারী আকায়েদ। আকায়েদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস এবং শাশুড়ি মাহফুজা আকতারও দাবি করেছেন, আকায়েদের মধ্যে জঙ্গিবাদি কোনো লক্ষণ তারা আগে দেখেননি।

    যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন,আকায়েদ তার দেহের সঙ্গে বাঁধা বিস্ফোরকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। তাদের ধারণা, আইএসের মত কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে আকায়েদ ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন। ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ আগে ফেইসবুকে এক পোস্ট দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আকায়েদ। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে বাকি জীবন কারাগারেই কাটতে হতে পারে আকায়েদকে। আহত আকায়েদকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ম্যানহাটনের বেলভিউ হাসপাতালে।

    সেখানে তার বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেমস ও’নিল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে সে ওই ঘটনা ঘটায়। অক্টোবর নিউইয়র্কের রাস্তায় পথচারীদের ওপর ট্রাক উঠিয়ে আটজন হত্যার ঘটনায় যে উজবেক অভিবাসীকে দায়ী করা হয়, আকায়েদও তার মত জিহাদি কোনো গোষ্ঠীর প্রভাবে একাকী হামলা চালানোর পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করেন নিউ ইয়র্কের মেয়র অ্যান্ড্রু কুমো। তিনি বলেন, তারা দুজনেই ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়েছে। আকায়েদ ওইভাবেই বোমা বানানো শিখেছে। তারা বিদেশ থেকে আসেনি, তারা এখানেই বসবাস করত।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com