• শিরোনাম

    নিখোঁজের একদিন পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের লাশ উদ্ধার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

    নিখোঁজের একদিন পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের লাশ উদ্ধার

    নিখোঁজের একদিন পর গতকাল রবিবার মধ্যরাতে রাজধানীর শুক্রাবাদ কাঁচাবাজার সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল হাসান রিমনের (৩৮) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯টার দিকে নিখোঁজ হন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা খলিল উল্লাহ নিউমার্কট থানায় একটি জিডি দায়ের করলেও পুলিশ তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি। পরিবার ও পুলিশের ধারণা, রিমনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিমন চায়নার একটি শিপে খন্ডকালীন চাকরি করতেন। মাস ছয়েক আগে দেশে ফিরেছেন। পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী কাকনের সঙ্গে মাস খানেক আগে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে তিনি উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বোনের বাসায় থাকতেন। আর কাকন তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাইন্সল্যাব মাল্টিপ্ল্যান গলিতে থাকেন। দুই সন্তান রাফান (১৩) ও রাইসা (৬) কখনো বাবার সাথে কখনো মায়ের সাথে থাকে।

    নিহতের চাচাতো ভাই সুমন জানান, শনিবার সকালের দিকে রিমন দুই সন্তানকে তাদের নানা বাড়ি থেকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। সারাদিন ঘুরা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সন্তানদের তাদের নানা বাড়িতে পৌঁছে দেন। তখন রিমন তার বন্ধু স্বাধীনকে জানায়, তার ধানমন্ডি কাজ আছে। কাজ শেষ করে বনানী যাবে। পরে স্বাধীন তাকে কল করলে রিসিভ করে না। এদিকে নিহতের বোন রেজয়ানাও তাকে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এভাবে রাত ১টা বেজে যায়। কিন্তু তিনি বাসায় ফিরেননি। পরে তার বাবা নিউমার্কেট থানায় জিডি করতে যান।

    থানা পুলিশ রিমনের শশুর বাড়ির গলির একটি ভিডিও ফুটেজ দেখে বলে, ওনি (রিমন) যেদিকে গেছেন তা ধানমন্ডি থানায় পড়েছে। আপনারা ধানমন্ডি থানায় জিডি করেন। সেই থানায় গেলে তারা পাঠায় কলাবাগান থানায়। কলাবাগান থানা আবার নিউমার্কেট থানায় পাঠায়। পরে ডিএমপি’র উধ্বর্তন এক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে নিউমার্কেট থানা পুলিশ রবিবার রাতে জিডি নেয়। তারা জিডি’র কপি নিয়ে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে যান।

    তখন রাত প্রায় দেড়টা। এ সময় শুক্রবাদ কাঁচাবাজার থেকে মুরগি ব্যবসায়ী পরিচয়ে এক ব্যক্তি রিমনের বোনকে ফোন করে তার মোবাইলটি পাওয়া গেছে বলে জানায়। তখন তারা কাঁচাবাজার গিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধার করেন এবং যেখানে মোবাইলটি পাওয়া গেছে তার পাশে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের নিচে খোঁজ করলে বেজমেন্টে রিমনের লাশ দেখতে পান। পরে খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    সুমনের অভিযোগ, নিহতের মিরপুর কাজীপাড়ায় একটি ফ্ল্যাট আছে। ওই ফ্ল্যাটে তার এক ফুফুতো বোনের ছেলে রনিকে থাকতে দেয়। একদিন রিমন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ৬-৭ জন নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রনি নারীদের দিয়ে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন খারাপ কাজ করাচ্ছে।

    রিমন ভাগিনা রনিকে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে বললে সে না ছেড়ে উল্টো রিমনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। তিনি আরো অভিযোগ করেন, রিমনের মেহেদী নামে এক শালা রয়েছে। তার সঙ্গেও রিমনের সম্পর্ক ভালো ছিল না। রিমন ও কাকন বিচ্ছেদের পর মেহেদী অনেক বার রিমনকে মারতে গিয়েছে। সে মাস্তান টাইপের। তা ছাড়া, রনির সঙ্গে মেহেদীর একটা সম্পর্ক ছিল বলে তার অভিযোগ।

    লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন নিউমার্কেট থানার এসআই মাহবুবুর রহমান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, নিহতের ডান কানের নিচে থেঁতলানো, বুকে, পিটে ও বাম কনুই’য়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তার মোবাইলটি ভাঙ্গা-চুরা ও ডিসপ্লে অকেজো অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

    মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার এসআই মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শেরেবাংলানগর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। যেহেতু এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল তাই জিডিটি মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com