• শিরোনাম

    ঢাকায় নেপালি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

    ঢাকায় নেপালি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    রাজধানীর ভাটারা থানাধীন পাইওনিয়ার ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নেপালি নাগরিক বিনিশা শাহ আত্মহত্যা করেছেন। আজ মঙ্গলবার কোনো এক সময় মেডিকেল কলেজটির হোস্টেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। ভাটারা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে আত্মহত্যার খবর পেয়েছি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

    জানা গেছে, বিনিশা শাহ পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের ২২তম ব্যাচের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার তার টার্ম-২ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা আগেই খাতা জমা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান এবং হোস্টেল কক্ষে গিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিনিশা শাহ’র সহপাঠীরা জানান, শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত চাপেই বিনিশা শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

    নাম প্রকাশ না করে তারা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ টার্ম-২ পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র আটকে রেখে দুই লাখ টাকা করে দাবি করে। পরে যার কাছে যেমন পেরেছে টাকার বিনিময়ে প্রবেশপত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই টার্ম-২ পরীক্ষা কঠিন করে এবং ফেল করায়। পরে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে কৃতকার্য করানো হয়। আজও টার্ম-২ পরীক্ষা কঠিন করা হয় এবং আধাঘণ্টা আগেই বিনিশা শাহ পরীক্ষা কেন্দ্র ত্যাগ করতে চাইলে শিক্ষকরা বকাবকি করেন।

    সহপাঠীদের অভিযোগ, বিনিশা শাহ হয়তো সে ভয়েই আত্মহত্যা করতে পারেন। পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. রকিবুল হোসেন রুমি জানান, শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগ করেছে সেটি সত্য নয়। এছাড়া বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত না। অতিরিক্ত ফি নেয়ার কোনো অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে ছিল না। ওই শিক্ষার্থী অপমানবোধ থেকে আত্মহত্যা করতে পারে।

    এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার ছিল টার্মের শেষ পরীক্ষা। এর তিন দিন পর ফ্লাইট ছিল নেপালের বিরাটনগর শহরে। পাঁচ মাস পর পরিবারের সঙ্গে দেখা হবে। খুব খুশি ছিল। তবে ফিরতে একটু তাড়াহুড়ো করে ফেললেন বিনিশা শাহ্। বাড়ি ফেরার তিন দিন আগেই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন তিনি। সহপাঠীর এ আত্মহত্যা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। তার মৃত্যুর খবর শুনেই স্বদেশি এবং তার বাংলাদেশি সহপাঠীরা তার মরদেহ দেখতে হোস্টেলে ভিড় করেন। তাদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে হোস্টেলের পরিবেশ।

    বিনিশা শাহের রুমমেট নেপালি শিক্ষার্থী রোকসা বলেন, বিনিশা পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই হল থেকে বেরিয়ে যায়। আমি পরীক্ষা শেষ করে এসে দেখি দরজা লক করা। অনেকক্ষণ নক করার পরও সে দরজা খুলছিল না। তখন বিকল্প চাবি এনে ওকে ঝুলে থাকতে দেখি। আমরা দুজন একসঙ্গে থাকতাম। গত সোমবার রাতে এবং গতকাল সকালেও একসঙ্গে খেয়ে পরীক্ষা হলে গিয়েছি।

    কখনো তার আচরণ-ভঙ্গিমা দেখে মনে হয়নি যে সে আত্মহত্যা করতে পারে। আমি এমন পরিস্থিতি কখনো কল্পনাও করিনি। তার আরেক বান্ধবী আফসারা বলেন, টার্ম-২ এর আর মাত্র একটি পরীক্ষা বাকি ছিল। পরীক্ষা শেষে ২২ ডিসেম্বর আমাদের একসঙ্গে নেপালে যাওয়ার কথা ছিল। বাড়ি যাওয়া নিয়ে আমরা খুবই খুশি ছিলাম। এছাড়া বিনিশা সবসময়ই হাসিখুশি একটা মেয়ে ছিল।

    গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ জানান, মঙ্গলবার তার ট্রার্ম-২ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাকে ধরে ফেলে, কিন্তু পরীক্ষা দিতে বারণ করেনি। বিনিশা নিজেই হল থেকে বেরিয়ে যান। হতাশা থেকেই সে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমরা আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছি। ক্রাইম সিন ইউনিট তার ঘর থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। এছাড়া কলেজের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com