• শিরোনাম

    বিকাশ এজেন্টের আড়ালে অর্থ পাচার : গ্রেফতার ৭

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ জানুয়ারি ২০১৮

    বিকাশ এজেন্টের আড়ালে অর্থ পাচার : গ্রেফতার ৭

    বিকাশ এজেন্টের আড়ালে অর্থ পাচারের ভয়ঙ্কর তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনে প্রবাসীদের টাকা বাংলাদেশে আনছে। এতে রেমিট্যান্স থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি প্রতিবেদন ধরে তদন্ত করে এ চক্রের ৭ বিকাশ এজেন্টকে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

    গ্রেফতাররা হলো- আবদুল মান্নান, সংগীত কুমার পাল, জামিনুল হক, মোজাম্মেল মোল্লা, হোসেন আলী, দিদারুল হক ও আবু বক্কর। গতকাল বুধবার রাতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জনিয়েছে সিআইডি। সিআইডি বলছে, রেমিট্যান্সের অর্থ অবৈধ ভাবে বিকাশের মাধ্যমে হুন্ডি করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে আটটি মামলা রয়েছে।

    তারা কোটি টাকার উপরে লেনদেন করেছে বলে পুলিশ বলছে। এর দু’দিন আগে একই অভিযোগে আরো দু’জন বিকাশ এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। বিকাশ ও মোবাইল ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ২৮৮৬ জন এজেন্টের অস্বাভাবিক লেনদেন তদন্ত করার জন্য সিআইডিকে অনুরোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই তদন্তের সূত্রেই এই ৭জন এজেন্টকে গ্রেফতার করা হলো। আজ রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, সম্প্রতি রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিএফআইইউ একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল সিআইডির কাছে। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট প্রতিবেদনটি বিস্তারিত অনুসন্ধান করে জানতে পারে- একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র রেমিট্যান্স কমানোর পিছনে কাজ করছে। এ চক্রের কারণে সঠিক নিয়মে বিদেশ থেকে টাকা না আসায় সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রেমিট্যান্স থেকে।

    এ চক্রের কিছু সদস্য বাংলাদেশে এবং কিছু সদস্য বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশি ওয়েজ অর্নারদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে তা অবৈধপথে বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুদ্রায় পরিশোধ করছে। বিকাশের নিয়মানুযায়ী গভীর রাতে কোন লেনদেন করা যায় না। কিন্তু বিকাশে শতভাগ ক্যাশইনের মাধ্যমে তারা গভীর রাতেও লেনদেন করছে। যেসব বিকাশের ক্যাশইন হচ্ছে তার মধ্যে ৬০টির মত মেশিন পেয়েছে সিআইডি।

    তদন্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে ইলেক্ট্রনিক বার্তায় বাংলাদেশে জানানো হচ্ছে- চট্টগ্রাম, পাবনা কিংবা মাদারিপুরে টাকা পাঠাতে হবে। হুন্ডি দলে কিছু সদস্য দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থান করে বাংলাদেশি ওয়েজ আর্নারদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করে তা বাংলাদেশে না পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় টাকায় স্থানীয়ভাবে পরিশোধ করছে। বিকাশ এজেন্টরা কোনো ধরণের নিয়মের তোয়াক্কা না করে বার্তা অনুযায়ী কাঙ্খিত জায়গায় টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছে।

    এতে বিকাশের হিসাব ব্যবহার করছে। এতে করে বিদেশ থেকে সরাসরি টাকা বাংলাদেশে না আসায় বাংলাদেশের রেমিট্যান্স কমছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যসহ লেনদেনে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সারা দেশে ২ হাজার ৮শ’ বিকাশ এজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। এর মধ্যে ২৫টি এজেন্ট নাম্বার থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে জানানো হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) একটি প্রতিবেদনেও ৭ বিকাশ এজেন্টের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠে। এরপর তদন্তে নামে সিআইডি’র অর্গানাইজ ক্রাইম ইউনিট।

    সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র বিদেশ থেকে যে টাকাই আসছে তা নয়, ইয়াবা বা মাদক ব্যবসার লেনদেনের টাকাও বিকাশ ব্যবহার করে দেশের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি টেকনাফের মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলার তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির পর, সেই বিক্রির টাকা আবার বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টেকনাফে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

    সেখান থেকে হাতঘুরে টাকা চলে যায় মিয়ানমারেও। জানা গেছে, বাংলাদেশে এখন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিলেও এই খাতের বড় অংশের লেনদেন ব্রাক ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিকাশের মাধ্যমে হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির এক লাখ ৮০ হাজার এজেন্ট রয়েছে। সবগুলো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট রয়েছে প্রায় ৫ লাখের বেশি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com