• শিরোনাম

    শ্যামলীতে ক্ষুব্ধ পুলিশ সদস্য ভাঙলেন প্রাইভেট কার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ জানুয়ারি ২০১৮

    শ্যামলীতে ক্ষুব্ধ পুলিশ সদস্য ভাঙলেন প্রাইভেট কার

    রাজধানীর শ্যামলী মোড়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করেছেন আরিফুর রহমান নামে এক পুলিশ কনস্টেবল। আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রাইভেট কার ভাঙচুরের সময় এর চালককেও মারধর করেন ওই পুলিশ কনস্টেবল।

    এতে এলাকাবাসী ওই পুলিশ কনস্টেবলের ওপর উত্তেজিত হয়ে পড়লে আদাবর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। থানায় উভয়পক্ষকে নিয়ে মিটমাটের চেষ্টা চলছে। তবে, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    জানা গেছে, কনস্টেবল আরিফুর রহমান গুলশানে কূটনৈতিক এলাকায় ডিউটিরত। তার বাবা স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) এএসআই সাইফুল ইসলাম গণভবনে ডিউটি করেন। আর প্রাইভেট কারটি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলোজি বিভাগের রেজিস্টার ড. সাবরিনা আরিফের ছেলে রাগিবের।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, আজ দুপুরে শ্যামলী মোড়ে একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে উল্টোপথে আসা পুলিশের একটি মোটর সাইকেলের হালকা ঘষা লাগে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী ওই পুলিশ কনস্টেবল হেলমেট ও বাটন দিয়ে ওই প্রাইভেট কারটি ভাঙচুর করে। ওই সময় প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন নাহিন। পেছনে বসা ছিলেন রাগিব ও আহনাফ মাহাদী। প্রাইভেট কার ভাঙচুর করার সময় রাগিব কনস্টেবলকে বলেন, আমার গাড়ি কেন ভাঙছেন? আপনার মোটরসাইকেল এমনকি আপনারও তো কিছুই হয়নি। ধাক্কা লাগার জন্য ক্ষমাও চায় ওই কিশোররা।

    এরপর অযথাই ওই কনস্টেবল রেগে গিয়ে রাগিবকে মারধর শুরু করলে গাড়িতে থাকা রাগিবের ২ বন্ধু ভয়ে পালিয়ে যায়। কনস্টেবলের এমন অসদাচরণ দেখে একপর্যায়ে এলাকাবাসী ওই কনস্টেবলের ওপর উত্তেজিত হয়ে পড়লে আদাবর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

    ভুক্তভোগী মাহাদী জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে আদাবর থেকে গাড়িযোগ বনানী যাচ্ছিলেন তারা তিন বন্ধু। গাড়িটি আদাবর-৮ লিংরোড হয়ে শ্যামলীর মূল সড়কে প্রবেশের মুখেই উল্টোদিকে আসা ওই কন্সটেবলের গাড়ির সঙ্গে হালকা ধাক্কা লাগে। এরপর ওই কন্সটেবল আমাদের গাড়ি ব্যারিকেড দেন। এ ঘটনার জন্য আমরা তার কাছে সরি বলে ভুল স্বীকার করি, কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথা না শুনে প্রথমে হেলমেট দিয়ে আমার মুখে আঘাত করেন। এরপর হেলমেট ও বাটন দিয়ে গাড়ির গ্লাস ভাঙেন, আর রাগিবকে পুলিশ বক্সের ভেতরে নিয়ে পেটান। এরপর ওই পুলিশ সদস্যসহ আমাদের সবাইকে আদাবর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    ভুক্তভোগী রাগিবের বাবা সাবরিনা আরিফ জানান, আমরা এ ঘটনার একটা বিহিত চাই, পুলিশের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। কিন্তু আমাদের ছেলেদের যেভাবে মেরেছে তাতে ওরা অনেক ভয় পেয়েছে। গাড়ির গ্লাসগুলো শরীরে লেগেছে। তিনি জানান, আমরা এ ঘটনায়, মামলা করতে চাই না, আমরা ওই পুলিশ সদস্যের বিভাগীয় প্রধান বরাবর অভিযোগ করবো তিনি যেন শাস্তির ব্যবস্থা করেন।

    আদাবর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, রাস্তায় দুর্ঘটনার জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসেছি। যদি ভুক্তভোগীরা মিটমাট না করে লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com