• শিরোনাম

    ‘মানুষ উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে’

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

    ‘মানুষ উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সরকার জনগণের সরকার। আমাদের লক্ষ্যই হল দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ। ৯ বছরে আর্থ-সামাজিক প্রতিটি খাতে আমরা যুগান্তকারী উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। মানুষ এখন উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে। দেশের অর্থনীতিকে আমরা শক্তিশালি করেছি। উন্নয়নের ৯০ ভাগ কাজই নিজস্ব অর্থায়নে করেছি। আজ বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালীতে পায়রা নদীর তীরে ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’ উদ্বোধন ও ৭ পদাতিক ডিভিশন সদর দপ্তর এবং দুইটি বিগ্রেড সদর দপ্তরসহ ১১টি ইউনিটের বর্ণিল পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী এমপি গেইটে ফলক উম্মোচনের মাধ্যমে ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’ পটুয়াখালীর ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং সেনাবাহিনীর ১৫টি ও পটুয়াখালীর ১টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছালে তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করেন সেনাবাহিনীর একটি দল। পরে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে কনফারেন্সে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, ৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আলম, নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল আবু এসরার ও সংসদ সদস্যবর্গ, সাবেক সেনাবাহিনী প্রধানগণ কুটনীতিকগণ এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরো বলেন, বর্তমানে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার ৭.২৮ শতাংশ। দারিদ্রের হার ২০০৫ সালের ৪১ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় ও বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌছেছে। চলতি অর্থ বছরে বৈদেশিক বিনিয়ােগে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুত উৎপাদন সক্ষমতা এখন ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। পারমানুবিক কেন্দ্র স্থাপন করছি।

    শেখ হাসিনা বলেন, স্বাস্থ সেবা আজ মানুষের দোর গোড়ায়। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭২ বছর। মেট্রোরেল, পায়রা বন্দর, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর ৫০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এ সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। জনগণের জীবন-মান উন্নত হবে।
    শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ।
    তিনি আরো বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই ডিভিশনের প্রত্যেক সদস্যের পেশাগত দক্ষতা ও কর্মচাঞ্চল্যে ৭ পদাতিক ডিভিশন একটি অনুকরণীয় ডিভিশনে পরিণত হবে। এই সেনানিবাস হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর এবং কার্যকর একটি সেনানিবাস।

    অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দের সাথে প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com