বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নন-ক্যাডার থানা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চক্রের হোতা মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত সোমবার জামালপুর থেকে তাকে করে সিআইডির সাইবার ইউনিট।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মালিবাগ সিআইডির সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানিয়েছেন সিআইডির সাইবার ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার মতিউর ফেসবুকে সাজেশনের আদলে প্রশ্ন সরবরাহ করে চাকরি প্রত্যাশিদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিষয়টি পিএসসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে গত ১ সেপ্টেম্বর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন পিএসসির সহকারী পরিচালক সুকর অঞ্জন সমাজদার। ওই দিনই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি পরীক্ষার আগে নিশ্চিত সাজেশনের নামে ফেইসবুক পেজে ‘সিক্রেট শিট, কেউ হাতছাড়া করবেন না’, ‘শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত সিক্রেট সাজেশন’, ‘হুবহু কমন পাবেন ৮০–৯০ শতাংশ’- এমন প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাজেশন শিট বিভিন্নজনকে পাঠাচ্ছিল। অর্থ লেনদেনের জন্য চক্রটি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ৭০–৮০জন চাকরিপ্রত্যাশির কাছ থেকে ৭–৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়। টাকা দেওয়া ব্যক্তিরা ইনবক্সে ও কুরিয়ারের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়েছে। ফেসবুকে দেওয়া বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে ওই পেজের এডমিনকে ধরে তার নম্বর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করি।
তিনি বলেন, আজকে তাকে আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্ত মতিউর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসে পিএসসি। তারা বিষয়টি সিআইডিকে জানালে অপারেশনে যায় সংস্থাটি। এই চক্রে ৮–১০ জন সদস্য রয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার মতিউর গ্রীন বিশ্ববিদ্যায়ল থেকে পড়ালেখা শেষ করে বেকার ছিলেন।


মন্তব্য করুন