ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিষখালী নদীতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ৭৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও পাঁচ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক পাঁচ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরির নেতৃত্বে বিষখালী নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে মাছ শিকারের সময় পাঁচ জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা। একই সঙ্গে পাঁচ কেজি ইলিশ মাছও জব্দ করা হয়।
পরে জব্দ করা কারেন্ট জাল নদীর পাড়ে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
আটক পাঁচ জেলের মধ্যে রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের মধ্যে পালট গ্রামের মো. মোশারফ মাঝির ছেলে মো. জাহাঙ্গীরকে (৩৮) এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই এলাকার মো. নাসির মাঝির ছেলে মো. মেহেদী হাসান জয় (২২), দক্ষিণ বড়ইয়া এলাকার মো. বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে মো. বাপ্পি হাওলাদার (১৯), একই এলাকার মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে মো. হেল্লাল হাওলাদার (৩৫) এবং মো. মিরাজ হাওলাদারের ছেলে মো. রাজিব হাওলাদারকে (৩৫) ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের এ সাজা দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষখালী নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে এবং আইন অমান্য করায় পাঁচ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


মন্তব্য করুন