গাজীপুরের শ্রীপুরে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনে ছুরিকাহত এক যাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁর পেট ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে অন্য ট্রেনের সঙ্গে ক্রসিংয়ের জন্য তিস্তা এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে থাকাকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত যাত্রীর নাম আনারুল ইসলাম (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড়ানোর সময় বগি থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান। পরে তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় আনারুলকে উদ্ধার করেন। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। পরে দ্রুত তাঁকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, ট্রেনের ছাদে বা ভেতরে কোনো হামলার ঘটনায় তিনি আহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তিনি ঠিক কোথায়, কীভাবে এবং কার দ্বারা ছুরিকাহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তোফায়েল হোসেন জানান, আহত ব্যক্তির শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর রক্তচাপ কমে গিয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আলমগীর হোসেন জানান, তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটির শ্রীপুর স্টেশনে নিয়মিত যাত্রাবিরতি নেই। অন্য ট্রেনের সঙ্গে ক্রসিংয়ের কারণে এটি সেখানে দাঁড়িয়েছিল। ওই সময় আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি ট্রেনের ছাদে নাকি ভেতরে আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য করুন