নামাজ পড়া অবস্থায় দৃষ্টি যত বেশি সংযত রাখা যাবে- নামাজে মনোযোগ বা খুশুখুজু বজায় রাখা তত সহজ হবে। দৃষ্টির ব্যবহার না জানার কারণে অনেকে নামাজে এদিক-সেদিক তাকাতে থাকেন, যা অনেক সময় নামাজ ভঙ্গের কারণ হয়। আবার অনেকে অতি সংযত করতে গিয়ে চোখ বন্ধ রাখেন- এটাও উচিত নয়। বরং নামাজে চোখ বন্ধ রাখা মাকরুহ।

হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানোর ব্যাপারে আপনি কী বলেন? জবাবে নবীজি বললেন- এটা হলো শয়তানের ছোঁ মারা, যা দ্বারা শয়তান আল্লাহর বান্দাদের নামাজ থেকে গাফেল ও উদাসীন করে ফেলে’ (বোখারি : ৭১৮)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কেউ নামাজে দাঁড়াবে, সে যেন এদিক-সেদিক না তাকায়, কারণ আল্লাহ তখন তার দিকে দৃষ্টি দিয়ে রাখেন যতক্ষণ না সে এদিক-সেদিক তাকায়’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৭৮০০)। আর নামাজে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ রাখতে নিষেধ করেছেন রাসুল (সা.)।

আল্লামা ইবনে হুমাম (রহ.) বলেন, ‘চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়া মাকরুহ। কেননা রাসুল (সা.) চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। আর সুন্নত হচ্ছে-সেজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে নামাজ পড়া। নামাজে চোখ বন্ধ রাখলে এই সুন্নত ছুটে যায়’ (বাদায়েউস সানায়ে : ১/২১৬)। নামাজে কখন কোথায় দৃষ্টি রাখবে, এ প্রসঙ্গে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন-‘নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার স্থানের দিকে থাকবে, রুকু অবস্থায় থাকবে দুই পায়ের মাঝখানে, বসা অবস্থায় থাকবে কোলের দিকে, সিজদা অবস্থায় থাকবে নাকের দিকে।’ (কিতাবুল মাবসুত : ১/২৮)।