গাজীপুরের শ্রীপুরে কিশোরী অপহরণ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আসামির স্বজনরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করে।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজ মাওনা এলাকার ইসমাইল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর থানা ও টাঙ্গাইল সদর থানার একটি যৌথ টিম অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আদিল ও তার বাবাকে ধরতে অভিযান চালায়। তাদের গাড়িতে তোলার সময় আসামির স্বজনরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টা অভিযান শেষে পালিয়ে যাওয়া দুই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে শ্রীপুরের নিজ মাওনা এলাকায় আদিলের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে উভয়ের বয়স কম হওয়ায় উপজেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি তাদের পরিবারে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে কিশোরী আবার সেখানে গেলে তার পরিবার আদিলকে প্রধান আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম বলেন, “আসামিদের গাড়িতে তোলার সময় স্বজনরা হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।”
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন মামলা প্রক্রিয়াধীন। কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।



মন্তব্য করুন