https://daynightbd.com


দুপুর পেরিয়ে বিকেলের পর থেকেই স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কিছুটা প্রাণ ফিরে পাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। গত সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবারের তুলনায় চলতি শুক্রবার মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। তবে ছুটির দিন ছাড়া অন্য দিনে মেলায় আগত ক্রেতার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রকাশনীর বিক্রেতারা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিকেলের পর থেকেই স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। পরিবার-পরিজন, শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে অনেক স্টলেই বই দেখা ও কেনাকাটার ভিড় দেখা যায়। ইফতার শেষে সন্ধ্যার দিকে সেই ভিড় আরও বাড়তে থাকে। তবে বিক্রেতাদের ভাষ্য, ছুটির দিনে তুলনামূলক ভালো বিক্রি হলেও সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে। তবে কিছু স্টলে বিক্রেতাদের বসে থাকতে দেখা গেছে।
মেলায় ঐতিহ্য প্রকাশনীর এক বিক্রেতা বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আজ অন্যদিনের তুলনায় বিক্রি বেশি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের ছুটির দিন-শুক্রবার ও শনিবারে ক্রেতার উপস্থিতি আজকের তুলনায় কম ছিল। তিনি বলেন, আজকে মেলায় কিছুটা ভিড় দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে ক্রেতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। আমাদের প্রকাশনীর বই আজকে ভালোই বিক্রি হয়েছে বলে জানান।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্টলের দায়িত্বে থাকা পুষ্পিতা রায়। তিনি বলেন, ক্রেতা কমে যাচ্ছে। মূলত রোজা ও ঈদের কেনাকাটার প্রস্তুতির কারণে অনেকেই বইমেলায় আসতে পারছেন না। তবে, আজ ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই কিছুটা কেনাবেচা হয়েছে। দুপুরে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও ইফতারের আগ মুহূর্ত থেকে আবারও বেচাকেনা বাড়ছে।
বাতিঘর প্রকাশনীর আরেক বিক্রেতা বলেন, অন্য বছরগুলোর বইমেলায় ছুটির দিন ছাড়াও অনেক ক্রেতা দেখা যায়। আর শুক্রবারে তো পা রাখার জায়গা পাওয়া যেত না। কিন্তু এবার সেই তুলনায় ভিড় অনেক কম। তবে আশার কথা হলো, গত শুক্রবারের তুলনায় এই শুক্রবারে ক্রেতা কিছুটা বেশি।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। জাহিদ হোসেন সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী জানান আমি প্রতিবছর বইমেলায় কয়েকবার আসি। তবে এবছর রমজান হওয়ায় অন্যান্য দিনগুলোতে আসতে পারি নি। ঈদে ছুটিতে বাড়ি চলে যাবো তাই আজ এসে একটা থ্রিলার বই কিনলাম। তবে এবছর মেলায় মশার উপদ্রব অনেক। মেলায় বেশিক্ষণ অবস্থান করা কষ্টকর।
আরেক দর্শনার্থী বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় বেশ কয়েক বছর ধরেই কাছ থেকে বইমেলা দেখছি। কিন্তু এবারের মতো পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি। অন্য বছরগুলোতে শুক্রবার মেলায় ঢুকতেই অনেক কষ্ট হতো, এত বেশি ভিড় থাকতো। আর এবার তুলনামূলকভাবে ভিড় অনেক কম।
কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাবিত নামের দর্শনার্থী বলেন এবছর বইমেলায় পাঠক ও ক্রেতা কম।আমি ও আসতাম না। আমার ফ্রেন্ড একটা প্রকাশনীতে আছে। ওকে নেওয়ার জন্য প্রতিদিন আসা হয়। তবে গতবছর গুলোর মতো এবছর বইমেলায় ক্রেতার সমাগম অনেকটা মলিন।


