https://daynightbd.com


ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
গাজীপুর প্রতিনিধি
লালনপালনকারীদের জিম্মায় দেওয়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় আবারও গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘সম্রাট বাহাদুর’ ও ‘নিহারকলি’ নামের দুটি হাতিকে। জিম্মার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে সোমবার অভিযান চালিয়ে হাতি দুটি উদ্ধার করে বন বিভাগ। মঙ্গলবার ভোরে ‘নিহারকলি’ এবং সকাল ১০টার দিকে ‘সম্রাট বাহাদুর’কে দুটি খোলা ট্রাকে করে সাফারি পার্কে নেওয়া হয়।
সাফারি পার্কে নেওয়ার পর প্রস্তুত থাকা মাহুতরা কৌশলে হাতি দুটিকে ট্রাক থেকে নামিয়ে আনেন। পরে বন্যপ্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইনসহ চিকিৎসকদের একটি দল তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাতি দুটিকে গোসল করিয়ে নির্ধারিত স্থানে রাখার কথা জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের গত ২৪ আগস্টের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাতি দুটি পৃথক দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে জিম্মার নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে এলে হাতি দুটির নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থেকে ‘নিহারকলি’ এবং জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে ‘সম্রাট বাহাদুর’কে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি মঙ্গোলিয়ায় সিওপি-১৭ সম্মেলনে অবস্থান করলেও হাতি দুটির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছেন।
এদিকে গত ৬ ও ৭ আগস্ট সাফারি পার্কে পরপর দুটি হাতির মৃত্যুর পর ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’কে তড়িঘড়ি করে লালনপালনকারীদের কাছে হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আলী রেজা খান তখন হাতি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে জিম্মাদারদের হাতি পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (পাওফ) চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিলও হাতি হস্তান্তরের শর্ত ও প্রক্রিয়া জানতে প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে ১৪ দফা তথ্য চেয়ে লিখিত আবেদন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত জিম্মার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে হাতি দুটিকে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশেষজ্ঞদের তোলা প্রশ্নগুলো নতুন করে সামনে এসেছে।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক রহমান বলেন, বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরপর গোসল করিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে।
পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘হাতি দুটিকে সকালে সাফারি পার্কে আনা হয়েছে। খোলা ট্রাকে এনে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে।’


