সিএনজি গ্যাসের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুর এলাকার গাড়িচালকরা। গ্যাস নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুল্লাহপুর এলাকার একটি সিএনজি স্টেশনের সামনে গ্যাস নেওয়ার জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি ল্লল্লহয়েছে। ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করলেও কখন গ্যাস পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্যাসের চাপ কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস ভরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একটি গাড়ি গ্যাস নিতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। এতে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি, বাড়ছে চালকদের ভোগান্তি।
গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দিনের আয়েও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। বিশেষ করে উবার ও রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত চালকদের জন্য এই সংকট আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলেও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী পরিবহনের সময় কমে যাচ্ছে এবং দৈনিক আয়ও কমে যাচ্ছে।
উবার চালক শফিক আহমেদ ডেনাইটবিডি কে বলেন, “এইভাবে যদি দিনের পর দিন গ্যাস না পাই, তাহলে সংসার নিয়ে, বাচ্চা-বউ নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যদি দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে আয় করব কখন?”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংসার চলে প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে যে আয় করি, সেই টাকা দিয়ে। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাতে পারি না। আবার গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলে যাত্রীও নিতে পারি না। এতে আমাদের দৈনিক আয় অনেক কমে যাচ্ছে।”
চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের সংকটের কারণে শুধু তাদেরই নয়, যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গাড়ি পর্যাপ্ত সময় রাস্তায় না থাকায় রাইড পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভাড়াও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় চালকরা বলছেন, নিয়মিতভাবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
চালকদের আশঙ্কা, এভাবে গ্যাস সংকট চলতে থাকলে তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগার আরও কমে যাবে। এতে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান করে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।



মন্তব্য করুন