https://daynightbd.com


গাজীপুরের শ্রীপুরে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছরের এক শিশুকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় শিশুটিকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেছে সে। বিয়ের পর আগামী শুক্রবার তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এর আগেই মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেয় শিশুটি। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামে। অভিযুক্ত শিশুর মা-বাবা ও তার কথিত স্বামী ভালুকা উপজেলার কাশর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রুবেল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শিশুটির অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে রুবেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মা-বাবা তাকে মারধর করেন এবং বিয়ে না করলে বিষ খাইয়ে হত্যার হুমকি দেন। শিশুটির ভাষ্য, রুবেল মাদকাসক্ত এবং এর আগে আরও তিনটি বিয়ে করেছেন।
শিশুটি বলে, ‘আমি বিয়ে করতে রাজি হয়নি। জোর করে আমাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আমি পড়াশোনা করতে চাই। সংসার করতে চাই না। লেখাপড়া শেষ করে বড় ডাক্তার হতে চাই। প্রশাসনের সহযোগিতা চাই, আইন যেন আমার কথা রাখে।’
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তার মা-বাবার কথাবার্তা থেকে জানতে পারে আগামী শুক্রবার তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হবে। এরপর রোববার বিকেলে সুযোগ বুঝে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রতিবেশী নানা সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে প্রতিবেশী মামা শরিফুল ইসলামকে বিষয়টি জানায়।
শরিফুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এসে বিস্তারিত ঘটনা জানানোর পর তাঁরা বিষয়টি জানতে শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরা ফোন বন্ধ করে দেন। পরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে গেলে শিশুটির মা-বাবা ও ছেলেটিকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক বলেন, শিশুটি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানার পরপরই প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত শিশুর মায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এর আগেই শিশুটির মা-বাবা ও কথিত স্বামী পালিয়ে যান। আপাতত শিশুটিকে তার প্রতিবেশী নানার বাড়িতে নিরাপদে রাখতে বলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে ওই যুবকের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কাজীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিশুটির মা-বাবাকেও খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পড়াশোনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।


