https://daynightbd.com


ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের আইনি পরিণতি প্রশ্নে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানিতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারত্ব ও বর্ণবাদের অবসান চেয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিরা।
গত চার মাসের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজারের বেশি নিরীহ ও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৬৯ হাজার। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে পুরো উপত্যকা।
১৯৬৭ সালের পর প্রায় ছয় দশক ধরে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করে চলেছে ইসরায়েল। এই দখলদারিত্ব বৈধ কি না, সেই প্রশ্নে সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজেতে শুনানি শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, শুনানিতে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি ও জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুরসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞ।
প্রথম দিনের শুনানিতে ফিলিস্তিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের পল রিচলার। এ সময় তিনি এসব অঞ্চলে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান দাবি করেন এবং গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দখলদারিত্বের আইনি পরিণতি সম্পর্কে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন।
ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বৈষম্যমূলক আচরণ বর্ণবাদের সমতুল্য বলে ঘোষণা দিতে আইসিজের প্রতি আহ্বান জানান পল রিচলার।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে পূর্ব-জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ইসরায়েলের ৫৭ বছরের দখলদারিত্ব বিষয়ে আইসিজে’র নিকট থেকে একটি অবাধ্যতামূলক ‘পরামর্শমূলক মতামত’ চেয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। ৮৭টি সদস্য দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৬টি দেশ।
আইসিজে’র যেকোনো মতামত বাধ্যতামূলক না হলেও ৭ অক্টোবর হামাসের নৃশংস হামলার ফলে গাজা যুদ্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের উপর আন্তর্জাতিক আইনি চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বিষয়ে নতুন করে শুনানির আহ্বান জানানো হয়। এই শুনানি গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা মামলাটি থেকে আলাদা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ওই মামলায় বলা হয়, ইসরায়েল বর্তমান গাজা হামলার সময় গণহত্যামূলক কাজ করছে। জানুয়ারিতে আইসিজে’র ওই মামলায় রায়ে বলা হয় গণহত্যা রোধ করতে ও গাজায় মানবিক সাহায্যের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে অবশ্যই তার ক্ষমতার মধ্যে সবকিছুই করতে হবে, তবে ওই আদেশে যুদ্ধবিরতির কথা ছিল না।
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আইসিজের এই শুনানিতে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। এদিন দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়া, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ও বেলজিয়ামও ফিলিস্তিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগের এ মামলায় ৫২টি দেশ ও তিনটি সংস্থা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখল, বসতি স্থাপন এবং নিজেদের সীমানা বর্ধিতকরণের মাধ্যমে ১৯৬৮ সালের নির্ধারিত সীমানার বিকৃতির অভিযোগ উঠেছিল। আর তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে আইসিজের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
এ ছাড়া ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যের আল-আকসা অঞ্চলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কিন্তু মৌখিকভাবে তাতে স্বীকৃতি দিলেও ইসরায়েল প্রকৃতপক্ষে সেই সীমানা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।
আইসিজের তদন্তে উঠে এসেছে, ১৯৬৭ সাল থেকেই বিভিন্নভাবে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের সীমানাভুক্ত এলাকা দখল করছে ইসরায়েল।
আবাসন নির্মাণের মাধ্যমে সেখানে ইহুদি বসতকারীদেরও নিয়ে আসা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নানা বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে এই দুই অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের চাপে রাখার কৌশলও বজায় রেখেছে দেশটি।


