সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের যোগাযোগকে সহজ করেছে। তবে এই প্ল্যাটফর্মকেই ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ সাইবার ব্ল্যাকমেইল চক্র। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সক্রিয় এসব চক্র বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারকরা প্রথমে ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। এরপর ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। একপর্যায়ে সেসব তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আপত্তিকর ভিডিও কলে অংশ নিতেও বাধ্য করা হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করছে। ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সংগ্রহের পর সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি, ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ও টেলিগ্রাম গ্রুপ পরিচালনা করে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থানকারী সদস্যদের মাধ্যমেও এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের এক কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মান, পারিবারিক চাপ এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ভয়ে প্রথমদিকে অভিযোগ করতে চান না। ফলে অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হলে ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

রাজধানীর এক ভুক্তভোগী তরুণী জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের পর বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে তার ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। পরিবারের কথা ভেবে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেন।

আরেক ভুক্তভোগী তরুণ বলেন, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিচিতদের কাছে অর্থ চাওয়া হয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের কাজ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অপরিচিত ব্যক্তির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা এবং সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে এ ধরনের অপরাধের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাইবার ব্ল্যাকমেইল এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি সংঘবদ্ধ অপরাধের একটি নতুন রূপ। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে পুঁজি করে অর্থ আদায়ের এই প্রবণতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিও সমান জরুরি।