জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এক বছরে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা আর্থিক মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী-কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এসব কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাকসু পেয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টাকা। অবশিষ্ট অর্থের বড় একটি অংশ এসেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মের স্পনসরশিপ এবং সহযোগিতা থেকে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় জাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাকসুর সদ্য সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘ফ্লুয়েন্ট ফিউচার ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স’-এর মাধ্যমে ইংরেজি, জাপানি ভাষা ও সফট স্কিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থী। এ কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ‘নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ মেথডোলজি কোর্স উইথ রিসার্চ প্রজেক্ট’-এ বিজ্ঞান, আইবিএ, ব্যবসা এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখার প্রায় ৪৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

জাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বড় পরিসরে জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৬ লাখ টাকা। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপের কারণে এ আয়োজনে জাকসুর নিজস্ব ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেন্টাল হেলথ ফ্রি কাউন্সেলিং ক্যাম্প’ আয়োজন করে জাকসু। এতে ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থী সেবা নেন এবং প্রায় ২০ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি স্থানে বিনামূল্যে সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়। জাকসুর তথ্যমতে, এ আয়োজনের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। পাশাপাশি ‘জাগরণ’ ও জাকসুর ম্যাগাজিন প্রকাশে পৃথকভাবে প্রায় ২ লাখ টাকা করে ব্যয় হয়েছে। জিমনেসিয়াম আধুনিকায়ন প্রকল্পেও ৫ লাখ টাকার স্পনসর সংগ্রহ করা হয়েছে।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সাত দিনব্যাপী সাইকেল ও স্কুটি প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ৫৫০ জন নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন। স্পনসরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও সংবাদ সম্মেলনে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবদানের পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

জাকসুর সদ্য সাবেক এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপকারে আসে এমন প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বরাদ্দের পাশাপাশি স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।