• শিরোনাম

    ২৩তম তারাবিতে যা পড়া হবে

    ধর্ম ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০২ এপ্রিল ২০২৪

    ২৩তম তারাবিতে যা পড়া হবে

    পবিত্র রমজানের ২২তম দিন শেষ হলো আজ। রাতে এশার নামাজের পর পড়া হবে ২৩তম তারাবি। রমজান মাসের অন্যতম আমল হলো কোরআনুল কারিম খতমের মাধ্যমে তারাবি নামাজ আদায়। ইসলামি ফাউন্ডেশন নির্ধারিত ২৩তম তারাবিতে দেশের প্রায় সব মসজিদে আজ পড়া হবে সুরা আহকাফ ১ আয়াত থেকে সুরা জারিয়াত ৩০ আয়াত পর্যন্ত। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৬তম পারা।

    চলুন একনজরে দেখে নিই- আজকের খতম তারাবিতে কী তেলাওয়াত করা হবে।

    সুরা আহকাফ, আয়াত ১-৩৫
    সুরা শুরু হয়েছে আল কোরআনের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। আগের কয়েকটি সুরার মতো এ সুরায়ও অবিশ্বাসীদের যুক্তি দিয়ে বোঝানো হয়েছে আল্লাহই প্রকৃত ইলাহ ও রব। বলা হয়েছে, তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কাউকে (অর্থাৎ মনগড়া দেবতাকে) ডাকে, যে কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিতে সক্ষম নয় এবং তাদের ডাক সম্পর্কে তাদের খবর পর্যন্ত নেই। সুতরাং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করতে হবে। নয়তো আখেরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এই সুরার মাঝখানে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই যারা বলেছে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, তারপর এতে অবিচল থেকেছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা হবে জান্নাতবাসী। সেখানে তারা থাকবে সর্বদা। তারা যা করত তার প্রতিদানস্বরূপ। এরপর আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনার কারণে পূর্ববর্তী উম্মতের পরিণতি কী— তা বলা হয়েছে। সত্য অস্বীকারকারীদের মোকাবেলায় ধৈর্যের উপদেশ দিয়ে সুরা শেষ করা হয়েছে।

    সুরা মুহাম্মদ, আয়াত ১-৩৮
    সুরা শুরু হয়েছে সত্য অস্বীকারকারীদের মোকাবেলার নির্দেশ দিয়ে। এমনকি তাদের কোথায় আঘাত করে কাবু করতে হবে তা-ও বলে দেওয়া হয়েছ। বলা হয়েছে, আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক; কাফেরদের কোন অভিভাবক নেই। যারা নবীজিকে মক্কা থেকে বের করে দিয়েছে তারা যেন নিজেদের বিজয়ী না ভাবে। বলা হচ্ছে, তাদের চেয়েও অনেক শক্তিশালী জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। তখন তাদের কোনো সাহায্যকারী ছিল না। এরপর বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর নির্দেশ মানবে এবং ঈমানের জিন্দেগি যাপন করবে তাদের জন্য জান্নাতের সুখময় জীবন অপেক্ষা করছে। সুরার শেষের দিকে মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে মুমিনদের উদ্দেশ্যে নসিহতের মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়েছে।

    সুরা ফাতহ, আয়াত ১-২৯
    সুরার শুরুতে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে মুমিনদের প্রশংসা ও তাদের প্রতিদান সম্পর্কে বলা হয়েছে। মুনফিকদের ব্যাপারে সতর্ক-সজাগ করে দেওয়া হয়েছে এখানে। পরে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে বিজয় ও ধনসম্পদ দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। এরপর শেষ অংশে নবীজিকে দেখানো স্বপ্ন আল্লাহ সত্য করেছেন সে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, মুমিনরা কাফেরদের ব্যাপারে কঠোর এবং নিজেদের ব্যাপারে কোমল। এভাবে সুরার ইতি টানা হয়েছে।

    সুরা হুজুরাত, আয়াত ১-১৮
    পুরো সুরাতেই মুমিনদের জন্য উপদেশ ও সামাজিক আদব বলে দেওয়া হয়েছে। প্রথম অংশে রাসুল (স.)-এর সঙ্গে আদব বজায় রাখার নির্দেশ এবং ধরণ বলে দেওয়া হয়েছে। শেষ অংশে মুমিনরা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে ভদ্রতাসোচিত আচরণ কী হবে তা বলে দেওয়া হয়েছে।

    সুরা কাফ, আয়াত ১-৪৫
    কোরআনের মর্যাদা উল্লেখ করে সুরা শুরু করা হয়েছে। তারপর যারা এ কোরআন অস্বীকার করে তাদের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। পূর্বে যারা অস্বীকার করেছিলো সংক্ষেপে তাদের কথাও বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, মৃত্যু অবধারিত। আর মৃত্যুর পর একসময় পুনরুত্থান হতে হবে। সেদিন কাফেরদের চোখ বিস্ফোরিত হবে। জাহান্নামের উদর পূর্ণ হবে পাপীদের দিয়ে। আর জান্নাতে থাকবে বিশ্বাসী বান্দারা। সর্বশেষ বলা হয়েছে, ‘হে নবী! সত্য অস্বীকারকারীদের জোর করে বিশ্বাস করানো তোমার দায়িত্ব নয়। তুমি শুধু কোরআনের বাণীর সাহায্যে তাদের উপদেশ দাও।

    সুরা জারিয়াত, আয়াত ১-৩০
    সুরা শুরু হয়েছে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের যৌক্তিকতা তুলে ধরার মাধ্যমে। আর তখন বিশ্বাসীদের অবস্থান হবে জান্নাতে। এরপর ইবরাহিম (আ.) ও তার কাছে আসা ফেরেশতাদ্বয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রথম অংশ আজ, আর শেষ অংশ পঠিত হবে আগামীকাল।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১:৩৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ এপ্রিল ২০২৪

    daynightbd.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত