ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সদস্যসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সমাজের রাজস্ব প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ট্যাক্স গাইড ২০২৩-২৪ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কর আপিল ও অব্যাহতি) মো. ইকবাল হোসেন গতকাল ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্যাক্স গাইডটির মোড়ক উন্মোচন করেন। ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ, ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি মালিক তালহা ইসমাইল বারী এবং সহ-সভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ উল্লেখ করেন, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকা চেম্বার তার সদস্যদের আয়কর, ভ্যাট, কাস্টমস আইনের পরিবর্তন সম্পর্কে অবহিত করার জন্য ডিসিসিআই ট্যাক্স গাইড প্রকাশ করে আসছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি জারিকৃত আয়কর আইন ২০২৩-এর আলোকে এবারের ট্যাক্স গাইডে আয়কর অংশের পরিবর্তন করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে আয়কর রিটার্ন, আপিল ও কর সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সহজে ও সাবলীলভাবে সম্পন্নে সহায়ক হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতিধারা অব্যাহত রাখতে জিডিপিতে করের অবদান বৃদ্ধির ওপর জোরারোপ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। সেই সঙ্গে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করজাল সম্প্রসারণ, রাজস্ব প্রদানের প্রক্রিয়ার পুরোপুরি অটোমেশন নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সহজীকরণ ও সংস্কারের ওপর জোরারোপ করেন ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদ। তিনি জানান, ডিসিসিআইর সদস্যবৃন্দের মধ্যে প্রকাশিত ট্যাক্স গাইডটি বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে এবং অন্যান্যরা নির্ধারিত ফির মাধ্যমে চেম্বার সচিবালয় থেকে ক্রয় করতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ঢাকা চেম্বার নিয়মিতভাবে ট্যাক্স গাইড প্রকাশ করে আসছে, যা আয়কর প্রদানকারীদের বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করে এবং এ ধরনের উদ্যোগের জন্য তিনি ডিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আয়কর একটি জটিল বিষয়। দেশের করদাতাদের সুবিধার্থে আয়কর আইন ২০২৩ বাংলায় প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের কর প্রদান প্রক্রিয়া বোঝাতে সহায়তা করবে। প্রণীত আইনটি ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অবহিত করার আহ্বান জানান, যার মাধ্যমে আইনটির প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে আরও যুগোপযোগী ও করবান্ধব আইনে পরিণত হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সব করদাতাকে আইনটি চর্চা করার আহ্বান জানান।



মন্তব্য করুন