বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, গত দুইবারের মত নতুন সংসদও অবৈধ। এই নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করেনি। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, গ্রহণযোগ্য হয়নি। শুধু তাই নয়, জনগণের অংশগ্রহণবিহীন এই নির্বাচন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলোও গ্রহণ করে নাই। আমরা মনে করি, এটা অবৈধ সরকারের অবৈধ সংসদ।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের দিন বুধবার (১০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক আয়োজনে কথা বলছিলেন ফারুক। জাতীয় মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে ‘ভোট বর্জনের জন্য’ জনগণকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে এ অনুষ্ঠানে আসেন তিনি।

নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ জনগণ ‘গ্রহণ করবে না’ মন্তব্য করে নবম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ ফারুক বলেন, ভোট বর্জনে জনগণকে ফুলেল শুভেচ্ছা। অবৈধ নির্বাচন জনগণ বর্জন করেছে। আমরা জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিচ্ছি এই ভোটে অংশগ্রহণ না করার জন্য। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৭ জানুয়ারি ‘লজ্জাজনক ঘটনা’ ঘটে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণের অনুপস্থিতিতে ভোটারবিহীন নির্বাচনে তল্পিবাহক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তথ্য-উপাত্ত দেখে বাংলাদেশের সকল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে যেটা দেখেছি, সেটা হল ২ থেকে ৪ পারসেন্টের বেশি ভোট পড়ে নাই। সেই ভোটের সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আজকে হয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখান করছি।

সরকারের উদ্দেশে ফারুক বলেন, আপনারা একটা ভুয়া ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছেন। এরশাদও ৮৬ সালে ৮৮ সালে নির্বাচন করেছিল। সেই নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করে নাই। আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন জোর করে, এবার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যে নির্বাচন আপনারা করেছেন ভোটারবিহীন, সেই সরকার আপনারা পরিচালনা করতে পারবেন না।

প্রেস ক্লাব এলাকায় রিকশাচালক ও পথচারীদের হাতে ফুল দেন বিএনপি নেতা ফারুক। মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব এসময় উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর গুলশান ১ নম্বর এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনিস বলেন, সরকার একতরফা প্রতারণার নির্বাচন করে গোটা জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে। আর জনগণ নির্বাচন বর্জন করে, প্রত্যাখ্যান করে সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়েছে।