দেশের মেডিকেল শিক্ষা ও চিকিৎসায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মান ভালো বলে দাবি করেছেন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি।

মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এদিন সকাল ১০টায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনা বৃদ্ধিতে র‌্যালি বের করা হয়।
পবিত্র কুরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে আলোচনাসভা শুরু হয়। আলোচনা শেষে ১০০ জনকে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেয়া হয়। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসটি বিশ্বব্যাপী জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে চেয়ারপার্সন ছিলেন আনোয়ার হোসেন খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি এন্ড অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেরীন এফ. সিদ্দিকা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আনোয়ার খান হেলথ্ গ্রুপের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আশরাফ আবদুল্লাহ ইউসুফ, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাসিমুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. তানজিউর হক, সাবেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী, অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. সাবেরা খাতুন, ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম, সাবেক অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, সেরাকের নির্বাহী পরিচালক এসএম সৈকত প্রমুখ।

ড. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, দেশে ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল, এখন কাটছাট করে ৬০টি মেডিকেল কলেজ আছে। বাকিগুলা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলা মেডিকেল কলেজ বন্ধ হওয়ার পথে। আমরা দেখেছি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ টিকানো খুব কঠিন হয়ে যাবে। একটি মেডিকেলে, হাসপাতালে ভুল হতেই পারে। কোন ভুলের জন্য কী হবে, সেটার জন্য একটা আইন থাকা দরকার।

এ সংসদ সদস্য বলেন, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা কঠিন। একটা শ্রেণি টাকার কাছে বিক্রি হবে কিন্তু আরেকটা শ্রেণি টাকায় বিক্রি হবে না। মানুষের আচার আচরণের কারণে মানুষ মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকে। তার প্রমাণ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি পেয়েছি। গত পাঁচ বছর আমি আমার এলাকার সর্বস্তরের জনগণের পাশে ছিলাম। যার জন্য দ্বিতীয় মেয়াদ জনগণ আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থ দিয়ে সব কেনা যায় কিন্তু মানুষের ঈমান কেনা যায় না। মানুষের ভালোবাসা কেনা যায় তবে তা অর্থ দিয়ে নয় হৃদয় দিয়ে কেনা যায়। মানুষের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করলে সেটা কখনো আর জোড়া লাগে না। আমার এলাকার ৫ লক্ষ লোক আমাকে বিজয়ী করেছে, তাদের কাছে আমি ঋণী হয়ে থাকলাম।

অনুষ্ঠানে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের বিষয়ে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. সেহেরীন এফ. সিদ্দিকা। তিনি বলেন, প্রতি বছর দেশে ১০ থেকে ১২ হাজার নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রন্ত হয়। যার প্রায় ৫০ শতাংশের এক বছরের মধ্যে মৃত্যু হয়। জরায়ু ক্যান্সারের কারণে একজন মানুষের মৃত্যু হবে, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসটি বিশ্বব্যাপী জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসাবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও হয়। আমরা জরায়ু ক্যান্সার দূর করতে চায়।

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন আনোয়ার খান হেলথ্ গ্রুপের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আশরাফ আবদুল্লাহ ইউসুফ। তিনি বলেন, করোনার সময় সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। জরায়ুমূখ ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইডেন মহিলা কলেজে ক্যাম্পেইন করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম বলেন, আমাদের কলেজে ২২ হাজার শিক্ষার্থী আছে। এখনো সময় আছে আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতন করা। তাদের সচেতন করতে পারলে তারা তাদের পরিবারে অন্য সদস্যদের সচেতন করতে পারবে।

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাসিমুল ইসলাম বলেন, জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতায় শুধু চিকিৎসাকরা জড়িত থাকলে হবে না। বিভিন্ন পেশার মানুষ এই সচেতনতায় যুক্ত করতে হবে।