https://daynightbd.com


ছবি-সংগৃহীত
শুত্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর এলিফেন্ট রোড এলাকায় মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে অবস্থান করছিলেন কয়েকজন যুবক। সবার পরনে ছিল শীতের পোশাক এবং মুখে সাদা মাস্ক। পায়চারি করা ওই যুবকরা হঠাৎ করেই রামদা এবং চাপাতি বের করে হামলা চালায় একটি গাড়িতে। এসময় গাড়ির বাইরে থাকা আরেক ব্যক্তিকে উপর্যপুরি কোপানো শুরু করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পরা ভিডিওটি ছিলো শুক্রবার রাত ১১টার ঘটনা বলে জানা গেছে। ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর এলিফেন্ট রোড এলাকায় মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত এক ব্যক্তিকে ধারালো রামদা এবং চাপাতি দিয়ে রাস্তায় ফেলে উপর্যপুরি কোপাচ্ছে। এসময় রাস্তা কিছুটা সুনসান ছিল। দুর্বৃত্তরা ভয়ঙ্করভাবে এক ব্যক্তিকে কোপাচ্ছেন এটা দেখে পাশ দিয়ে যাওয়া কিছু যানবাহন দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করে।
পুলিশ এবং স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, যে ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে উপর্যপুরি কোপানো হয়েছিল তিনি স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী এবং এলিফেন্ট রোড কম্পিউটার সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. এহতেশাম। এসময় ওই কমিটির সভাপতি ওয়াহিদুল হাসান দিপুও হামলার শিকার হন। হামলার ঘটনায় তিনি গাড়িতে থাকায় শুধু পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে পুলিশ জানায়, রাতে গাড়ি নিয়ে মার্কেট থেকে বের হওয়ার সময় উৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা প্রথমে সভাপতি দিপুর গাড়িতে হামলা করে। তবে তারা গাড়ি ভাঙার চেষ্টা করলেও সেটি সফল হয়নি। জানালার কাঁচ ভেঙে তার পায়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এসময় ওই জায়গায় এহতেশামকে পেয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে কোপাতে থাকে হামলাকারীরা। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে হামলায় আহত ওয়াহিদুল হাসান দিপু বলেন, “একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এসব নিয়েই হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) তারেক লতিফ বলেন, “কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। যারা কুপিয়েছে তাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।” তিনি আরও বলেন, “এটা মার্কেটের বিষয় না কি কোনো ব্যক্তিগত বিষয়, অখবা এতে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা রয়েছে কি না- সব বিষয়ে মাথায় রেখে ঘটনার তদন্ত চলছে।”


