https://daynightbd.com


হজরত সালমান ফারসী রা.-এর জন্ম পারস্যে। তার মা-বাবা ছিলেন অগ্নিপূজারী। বাবা ছিলেন গোত্র প্রধান। অগ্নিপূজারী সমাজে বেড়ে উঠার সুবাদে তিনি পূজার দেখভালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। বেশির ভাগ সময় সালমান ফারসীকে তার বাবা বাড়িতে আটকে রাখতেন, বাইরে বেরোতে দিতেন না খুব বেশি।
একদিন চাষাবাদের জমির খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য তাকে বাইরে পাঠালেন বাবা। যাওয়ার পথে খৃষ্টানদের একটি গির্জা চোখে পড়লো। তাদের ইবাদত পদ্ধতি খুব পছন্দ হলো তার। সেখানে জানতে পারলেন এই ধর্মের উৎপত্তি শামে।
সেখানে সারাদিন কাটিয়ে বাড়িতে ফিরলেন। সারাদিনের কাজের খবর শুনতে চাইলে বাবাকে তিনি জানালেন, কাজে যাননি। খৃষ্টানদের গির্জায় কাটিয়েছেন সারাদিন। তাদের ধর্মাচার খুব পছন্দ হয়েছে।
বাবা তাকে বললেন, এই ধর্মের মানুষদের কাছে ঘেঁষা বন্ধ করো। এতে কোনো কল্যাণ নেই। তোমার পূর্বপুরুষের ধর্মই সত্য ও কল্যাণকর। তিনি বাবাকে বললেন, ওই ধর্মই আমাদের থেকে উত্তম।
ছেলে ধর্মান্তর হওয়ার আশঙ্কায় বাবা তাকে লোহার শিকল পড়িয়ে আটকে রাখলেন। তিনি গোপনে গির্জায় খবর পাঠিয়ে বললেন, শামের কোনো কাফেলা পেলে আমাকে খবর দিও। একদিন সুযোগ বুঝে একটি কাফেলার সঙ্গে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে শামে গেলেন।
শামে গিয়ে মানুষের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে সেখানকার গির্জার প্রধান পুরোহিতের কাছে গেলেন এবং বললেন, আমি খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছি। এখন আপনার খেদমত করে জীবন কাটাতে চাই। পুরোহিত তাকে সুযোগ দিলেন।
কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর সালমান ফারসী রা. বুঝতে পারলেন— পুরোহিত একজন অসৎ ব্যক্তি। তিনি গরীব-দুঃখীকে দানের কথা বলে সমাজের লোকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। কিন্তু তা নিজেই আত্মসাৎ করে পুঞ্জিভূত করে রাখেন।
কিছুদিন পর সেই পুরোহিতের মৃত্যু হলে মানুষ তাকে দাফন করতে এলো। সালমান ফারসী রা. তাদের বললেন, এই লোক ধোঁকাবাজ ছিলো। তাদের দান করা সম্পদ নিজের জন্য আত্মসাৎ করে পুঞ্জিভূত করতো সে। প্রমাণ হিসেবে তার রেখে যাওয়া স্বর্ণ-রৌপ্য ভর্তি সাতটি কলস দেখালেন তিনি। লোকেরা তাকে দাফন না করে শূলে চড়িয়ে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখলো।
এরপর অন্য একজনকে সেই পুরোহিতের স্থলাভিষিক্ত করা হলো। নতুন পুরোহিত সৎ লোক ছিলেন। দিন-রাত ইবাদত করতেন। দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে দীর্ঘ দিন কাটালেন সালমান ফারসী রা.। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি সালমান ফারসীকে মওসুলের এক পুরোহিতের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমার জানামতে আমার পরে, ওই ব্যক্তি অপেক্ষা নিষ্ঠাবান আর কেউ নেই। তুমি খোদার বিধান মেনে চলতে চাইলে তার সংস্পর্শে থাকো।
কথামতো সালমান ফারসী সেই লোকের কাছে গেলেন। তিনিও সৎ ছিলেন। কিছুদিন তার সঙ্গে কাটানোর পর তারও মৃত্যু হলো। মৃত্যুর সময় তিনি সালমান ফারসীকে নাসসীবিনের এক পুরোহিতের সংস্পর্শ গ্রহণের পরামর্শ দিলেন।
নাসসীবিনের সেই পুরোহিতকেও নিষ্কলুষ পেলেন সালমান ফারসী রা.। তবে এই পুরোহিতও অল্প দিনের ব্যবধানে মারা গেলেন। মৃত্যুর আগে আম্মুরিয়াতের এক পুরোহিতের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তাকে।
আম্মুরিয়াতের এই পুরোহিতও সৎ এবং ধর্মপরায়ণ ছিলেন। কিন্তু তিনিও বেশিদিন বাঁচলেন না। তবে তিনি মৃত্যুর আগে সালমান ফারসীকে বললেন—
আমরা যেই সত্যকে ধারণ করেছি। আমার জানামতে পৃথিবীতে আর কেউ এমন নেই যিনি এই সত্য ধারণ করেছেন। তবে অদূর ভবিষ্যতে আরবে একজন নবীর আবির্ভাব ঘটবে। তিনি জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে বড় বড় কালো পাথর ও খেজুর গাছ বিশিষ্ট এক ভূমিতে হিজরত করবেন। তাকে চেনার জন্য স্পষ্ট কিছু নির্দশন থাকবে। তিনি উপহার গ্রহণ করবেন এবং খাবেন। কিন্তু সদকার জিনিস খাবেন না। তাঁর দু’কাধের মাঝখানে নবুয়তের মোহর থাকবে। তুমি পারলে সে দেশে যাও।


