ঢাকা
২৮ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কবি নজরুল ক্যাম্পাসে ২০২৫-২৬ সেশনের ভর্তি সহায়তায় ‘অগ্রপথিক’-এর হেল্প ডেস্ক ফুলবাড়ীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অ্যাডভোকেসি সভা মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের ‘সীরাতের সুর ধ্বনি’ আয়োজন দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ ‎মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নেপালে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৫৭ সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ কয়েকশ পর্যটক কবি নজরুল কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
Advertise with us

শয়তানের ধোঁকায় ধ্বংস হয়েছিল যে ৬ নবীর সম্প্রদায়

ধর্ম ডেস্ক
রবিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   ৫৭ বার পঠিত
শয়তানের ধোঁকায় ধ্বংস হয়েছিল যে ৬ নবীর সম্প্রদায়

প্রতীকী ছবি  

আল্লাহ তায়ালার দরবার থেকে বিতাড়িত ইবলিশ শপথ করেছিলো সে নিজের মতো আদম সন্তানকেও বিপদগামী করবে। প্রথমেই সে ফন্দি এঁটে আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে আনে। পৃথিবীতে সবধরণের অন্যায়-অনাচারের মূলে থাকে ইবলিশের কুমন্ত্রণা। কোরআন হাদিসের বর্ণনা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট যে অভিশপ্ত ইবলিশের কুমন্ত্রণাতেই মানুষ বিপথগামী হয়। কিন্তু ইবলিশ অভিশপ্ত হওয়ার আগে তো কুমন্ত্রণা দেওয়ার কেউ ছিল না, তাহলে সে কার ধোঁকায় পড়ে আল্লাহর হুকুম অমান্য করেছিলো?

‘বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার,মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে। (সুরা নাস, আয়াত, ১-৪)

এই সুরার আলোকে আলেমরা বলে থাকেন, শয়তান শুধু মানুষকে ধোঁকা বা কুমন্ত্রণা দেয় না. শয়তানের মতো নফসও মানুষকে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে। আর এ কারণেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপন নফসের অনিষ্ট থেকেও আশ্রয় প্রার্থনা শিক্ষা দিয়েছেন।

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই, আমার নফসের অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্ট থেকেও এবং তার জাল থেকেও।’ (আবু দাউদ: ৫০৬৭, তিরমিযী: ৩৩৯২, মুসনাদে আহমাদ: ১/৯)

আত্মশুদ্ধি অর্জনকারী আলেমদের মতে মানুষের মনে যত ধরণের কুমন্ত্রণার উদয় হয় তা তিন প্রকার –

১) নফসের কুমন্ত্রণা।
২) শয়তানের কুমন্ত্রণা।
৩) মানুষের দেওয়া কুমন্ত্রণা।

আর নফসের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে সব সময় খারাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত করবে। কিন্তু ভালো কাজের দিকে আহ্বান করবে না। নফসের কুমন্ত্রণা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ

অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার মন তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয়, তা আমি জানি। আমি তার ঘাড়ে অবস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটতর। (সূরা কাফ-১৬) কুমন্ত্রণা অন্তরে উদীয়মান সেই কল্পনাগুলোকে বলা হয়, যার জ্ঞান ঐ মানুষটি ছাড়া আর কারো থাকে না। কিন্তু আল্লাহ সেই কল্পনাগুলোও জানেন।

নফসের কুমন্ত্রণা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,(হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন)

وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ

আমি নিজের নফসকে পবিত্র মনে করি না। নিশ্চয়ই নফস (সবাইকেই) মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, একমাত্র ওই ব্যক্তি ছাড়া যার প্রতি আমার প্রতিপালক অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা ইউসুফ: ৫৩)

ইবলিশ মূলত নফসের ধোঁকায় পড়ে আল্লাহ তায়ালার হুকুম অমান্য করেছিলো। আরেকটি বিষয় হলো- আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জ্বিনকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। অর্থাৎ চিন্তা ও কাজের স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং বলে দিয়েছেন যে, কর্ম অনুযায়ী পরকালে তাদের বিচার হবে। ‘হে মানুষ ও জ্বিন! অচিরেই তোমাদের (হিসাব নিকাশের) প্রতি মনোনিবেশ করব।’ (সুরা রহমান: ৭৮)

আর ইবলিস ছিল জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত। জিন জাতি হলো আগুনের তৈরি। হাদিসেও এসেছে যে, ‘ফেরেশতাকুল নূর থেকে, ইবলিশ অগ্নিশিখা থেকে এবং আদম (আঃ)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ (সহীহ মুসলিম)

অতএব শয়তান যখন দেখল আল্লাহ তায়ালা তার ওপর মাটির তৈরি মানুষকে প্রাধ্যন্য দিচ্ছেন তখন সে নফসের ধোঁকায় পড়ে নিজের স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে গিয়ে অহংকার করে বসেছে। এবং সে মাটির তৈরি মানুষকে সেজদা করতে অস্বীকার জানিয়েছিলো।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে যে, সিজদা করছ না, যখন আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছি’? সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১২)

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ
SuMoTuWeThFrSa