https://daynightbd.com


প্রতীকী ছবি
পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘জমিনে বিচরণশীল এমন কোনো জীব নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তিনি জানেন তাদের থাকার জায়গা কোথায় আর কোথায় তাদেরকে (মৃত্যুর পর) রাখা হয়, সব কিছুই আছে সুস্পষ্ট লিপিকায়।’ (সুরা হুদ, আয়াত : ৬)। পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টির জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন। তারপরও মানুষের মধ্যে রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে। প্রায় মানুষই রিজিক বা জীবিকার চিন্তায় মুষড়ে পড়েন। হতাশায় ভোগেন। জীবনযাপন নিয়ে ভয়ে থাকেন। রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তা বা হতাশাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, আল্লাহর এক নাম রাজ্জাক—তিনি মানুষের রিজিকিদাতা।
অনেকেই বেশি রোজগার করতে চান। ভালো কর্মসংস্থানের আশায় থাকেন। ভাবেন, আরেকটু ভালো বেতনের চাকরি কিংবা ব্যবসাটা আরেকটু ভালো গেলে জীবনটা বদলে যাবে। আরামে থাকা যাবে। রিজিক বৃদ্ধি বা আয়-উপার্জনে বরকতের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করার পাশাপাশি দোয়া পড়তে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথার্থভাবে ভরসা রাখো। তিনি তোমাদের সেভাবে রিজিক দান করবেন, যেভাবে তিনি পাখিদের দান করে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৬৪)। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—
১. বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাক ফিনি বি হালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাজলিকা আম্মান সিওয়াক।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, হারামের পরিবর্তে আপনার হালাল রুজি আমার জন্য যথেষ্ট করুন। আর আপনাকে ছাড়া আমাকে কারও মুখাপেক্ষী করবেন না। আপনার অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে সচ্ছলতা দান করুন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)
২. বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি লি ফি দারি, ওয়া বারিক লি ফিমা রাজাকতানি।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমার ঘর প্রশস্ত করে দিন এবং আপনি আমাকে যে জীবিকা দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫০০)
৩. রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম দোয়া সাইয়েদুল ইসতেগফার।
সাইয়েদুল ইসতেগফারের বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খলাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা, ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সনাতু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ লাকা বিজাম্বি, ফাগফির লি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ-জুনুবা ইল্লা আন্তা।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, একমাত্র আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আপনিই আমার স্রষ্টা এবং আমি আপনার দাস। আমি আপনার সঙ্গে কৃত ওয়াদা ও অঙ্গীকারের ওপর সাধ্যানুযায়ী অটল ও অবিচল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের সব অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার ওপর আপনার দানকৃত সব নেয়ামত স্বীকার করছি। আমি আমার সব গুনাহ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।


