ঢাকা
২৮ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কবি নজরুল ক্যাম্পাসে ২০২৫-২৬ সেশনের ভর্তি সহায়তায় ‘অগ্রপথিক’-এর হেল্প ডেস্ক ফুলবাড়ীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অ্যাডভোকেসি সভা মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের ‘সীরাতের সুর ধ্বনি’ আয়োজন দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ ‎মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নেপালে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৫৭ সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ কয়েকশ পর্যটক কবি নজরুল কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
Advertise with us

ঝালকাঠির ১২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, শূন্য সহকারী শিক্ষকের ২৮৭ পদ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬   ১৯ বার পঠিত
ঝালকাঠির ১২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, শূন্য সহকারী শিক্ষকের ২৮৭ পদ

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

ঝালকাঠির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৫টিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলায় সহকারী শিক্ষকের ২৮৭টি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৯৫ জন। বাকি ১২৫টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ঝালকাঠি সদরের ১৬২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১টিতে, নলছিটির ১৬৭টির মধ্যে ৫৭টিতে, রাজাপুরের ১২৪টির মধ্যে ৪২টিতে এবং কাঁঠালিয়ার ১৩২টির মধ্যে ৪৫টিতে প্রধান শিক্ষক নেই।

জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থী ৫৭ হাজার ২৮০ জন। এর মধ্যে ছেলে ২৬ হাজার ৮৫৪ এবং মেয়ে ৩০ হাজার ৫২৬ জন।

প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক সংকটও রয়েছে। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ হাজার ৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২ হাজার ৭১৬ জন এবং চলতি দায়িত্বে রয়েছেন ১২৫ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ২৮৭টি পদ।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ঝালকাঠি সদরে সহকারী শিক্ষকের ৩২টি, নলছিটিতে ৬৬টি, রাজাপুরে ১১৭টি এবং কাঁঠালিয়ায় ৭২টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক—দুই ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা তদারকি এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৯১ নম্বর দেরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে আমাকে নিয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”

কাঁঠালিয়া উপজেলার ৪৪ নম্বর কাঁঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান বলেন, “দেড় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩০১ জন। সহকারী শিক্ষকের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন শিক্ষক পদ শূন্য থাকলে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঝালকাঠি জেলার সাধারণ সম্পাদক ও টিআইবির সনাক সদস্য ইসমাঈল মুসাফির বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষক পদ শূন্য থাকলে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করারও প্রয়োজন রয়েছে।”

শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের প্রশাসনেও জনবল সংকট রয়েছে। জেলার চার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২৬টি পদের মধ্যে ১২টি এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ১১টি পদের মধ্যে ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, “প্রধান শিক্ষকের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা না গেলে প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন। তাই দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করে ঝালকাঠির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ
SuMoTuWeThFrSa