‘বাংলাদেশে গণহত্যা’ ইস্যুতে দিল্লিতে ডাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (বিএইচআরডব্লিউ) নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে বুধবার (২৩ জুলাই) বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র। তবে মাইলস্টোন ট্র্যাডেজির কারণে সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করেছেন বলে দাবি আয়োজকদের।

জানা গেছে, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রীরা দিল্লি সফর করেছিলেন। এদের মধ্যে হাসান মাহমুদ, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল রয়েছেন।

বিএইচআরডব্লিউ’র অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আয়োজক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র শাখার মহাসচিব হিসেবে দাবি করেন। তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে শেখ হাসিনার পক্ষে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। গত বছরের আগস্টে টানা ছাত্র আন্দোলনের মুখে হাসিনা সরকারের পতনের পর এ ধরনের কার্যক্রম আরও সক্রিয় হয়েছে।

অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঢাকায় এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অনেক প্রাণহানি হয়েছে। সেজন্য আমরা অনুষ্ঠান স্থগিত করছি। অনুষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে দিল্লিতে নিযুক্ত কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি ঘিরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনানুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কারণ, আগামী ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক বছর পূর্ণ হবে। ঠিক এই সময় দিল্লিতে একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন চলমান সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।সূত্রগুলো আরও জানায়, শুরু থেকেই বাংলাদেশে নির্দলীয় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়ে এসেছে ভারত। এ ধরনের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অনুষ্ঠান সেই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশ ঘিরে সহিংসতায় চারজন নিহত হন।