রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারি বাজারে চলছে শারদীয় দূর্গাপূজার মহা সপ্তমীর দেবীদর্শন ও আরাধনা।এই দিনে মোট ২৩ টি পূজামন্ডপ বসেছে।প্রতিটি মন্ডপই সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা ও শিল্পকর্মে।সন্ধ্যার পর থেকেই জমে উঠেছে শাঁখারি বাজার পূজামন্ডপ।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু হয়েছে। চণ্ডী ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে পূজা, দেবী–দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে দিনব্যাপী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
মহাসপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা স্থাপন করা হবে। ‘নবপত্রিকা’ শব্দের অর্থ হলো নয়টি ভিন্ন গাছের পাতা। এগুলো হলো— কদলী বা রম্ভা (কলা), কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব (বেল), দাড়িম্ব (ডালিম), অশোক, মান এবং ধান। এসব উদ্ভিদকে পাতাসহ একটি কলাগাছের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। এরপর এক জোড়া বেলপাতা ও শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে ঘোমটা দেওয়া বধূর মতো সাজানো হয়। পরে তাতে সিঁদুর পরিয়ে দেবী প্রতিমার ডান পাশে দাঁড় করিয়ে পূজা করা হয়। প্রচলিতভাবে এই নবপত্রিকাই পরিচিত ‘কলাবউ’ নামে।
নবপত্রিকার ৯ টি উদ্ভিদকে দেবী দুর্গার ৯ টি বিশেষ রূপের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। নবপত্রিকা প্রবেশের পর অনুষ্ঠিত হয় দেবীর মহাস্নান।
এসময়ে দর্শনার্থী অর্নব দে বলেন,গত বছরের তুলনায় এবারের আয়োজন সত্যিই চমৎকার হয়েছে।পূজার মন্ডপ গুলোতে ভিড় থাকলেও শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে।এই সুন্দর পরিবেশে আমার পরিবার নিয়ে পূজা মন্ডপে এসস নিশ্চিন্তে দেবীদর্শন করতে পারছি।
আরেক দর্শনার্থী রিমা সাহা বলেন,আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে প্রতিবছরই আমরা শাঁখারি বাজারের পূজা দেখতে আসি।গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেকগুলো পূজা মন্ডপ বসেছে। আমি সবগুলোই পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখেছি অনেক ভালো লাগছে। একেক পূজা মন্ডপে একেক রকম আলোকসজ্জা রয়েছে।প্রতিটি মণ্ডপের সাজসজ্জা ভিন্ন হওয়ায় আনন্দটা অন্যরকম।



মন্তব্য করুন