ওর্যাল স্যালাইন এখন প্রত্যেক পরিবারের কাছে একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ার সময় এই ওর্যাল স্যালাইন শিশুদের জন্য তাৎক্ষণিক টনিক হিসেবে কাজ করে। বাজারে অনেক ধরনের ওর্যাল স্যালাইন পাওয়া যায়। প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে যেটা পাওয়া যায় তা-ই তাৎক্ষণিক ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ ডায়রিয়ার সময় ওর্যাল স্যালাইনের কোনো বিকল্প নেই।
ওর্যাল স্যালাইন তৈরির জন্য কিছু উপাদান প্রয়োজন হয়। আর সেই উপাদানগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এক ধরনের অ্যালুমিনিয়াম ডাস্ট প্রয়োজন হয় ওর্যাল প্যাকিংয়ের জন্য। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি প্যাকেজিং পণ্য আমদানি করে। আগে এই পণ্যের কাস্টম শুল্ক ছিল শূন্য শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ। আর এখন এই শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে অন্যান্য শুল্ক যোগ করে দাঁড়ায় ৪৮ শতাংশ। আবার এই পণ্য আমদানি ক্ষেত্রে যে ডলার ব্যবহার হয় সেই ডলারের দামও বেড়ে গেছে। সবমিলে আমদানি পর্যায়ে অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিকিৎসকরা বলেন, ওর্যাল স্যালাইন এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ পণ্য। যার মূল্য নির্ধারণ করে মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন। বর্তমানে ওর্যাল স্যালাইনের দাম ৬ টাকা। যা আগে ছিল ৫ টাকা। বিভিন্ন শুল্ক বৃদ্ধি পেলেও, মানবিক কারণে ওষুধ কোম্পানিগুলো সহজে মূল্য বৃদ্ধি করতে পারে না। কারণ সবাই বোঝে ও জানে এই পণ্যটি ডায়রিয়ার জন্য সারা বাংলাদেশের মানুষ ব্যবহার করে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। এ ছাড়া এই পণ্যটি বেশি ব্যবহার গ্রীষ্মকালে। মোটকথা, জেলে, তাঁতি থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষক এর আওতায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পণ্যটির আমদানি ব্যয় হয় ১৫ টাকার মতো। স্থানীয় পর্যায়ে কারিগরি ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে অনেক কোম্পানি এই পণ্যটির উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। আর চাহিদা অনুযায়ী ওর্যাল স্যালাইন না পাওয়া গেলে সরবরাহ ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আর চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ না হলে দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দাম বৃদ্ধি পেলেই চিকিৎসা খাত বড় একটি সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করে আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী।
এদিকে উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে এ ব্যাপারে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ও বিভিন্ন কর অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের পরামর্শ হচ্ছে, যত শিগগির সম্ভব অব্যাহতির বিষয়টি প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা। যেন ওর্যাল স্যালাইনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে।



মন্তব্য করুন