https://daynightbd.com


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গালিব ইমতিয়াজ নাহিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা গালিব ইমতিয়াজ নাহিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে “মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক” বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “নির্বাচনের ঠিক আগে, ০৯ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং দলের একজন ত্যাগী তরুণ নেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গালিব ইমতিয়াজ নাহিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একজন মেধাবী, পরীক্ষিত ও সাহসী তরুণ মুখ।”
তাঁরা আরও বলেন, “গালিব ইমতিয়াজ নাহিদ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজপথে থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সংগ্রাম এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার প্রতিবাদে তিনি রাজপথে ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি কঠিন সময়ে তিনি দল ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকেছেন।”
বক্তারা বলেন, “গালিব ইমতিয়াজ নাহিদ অত্যন্ত মেধাবী, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে নিবেদিতপ্রাণ একজন তরুণ নেতা। দুঃসময়ে রাজপথে তাঁর ত্যাগ, সাহস ও নিষ্ঠা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অথচ দলের ভেতরে থাকা কিছু হাইব্রিড ও সুযোগসন্ধানী ব্যক্তির অপতৎপরতার কারণে তাঁর মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।”
আবেগঘন বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গালিব ইমতিয়াজ নাহিদের মতো ত্যাগী তরুণ নেতারাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রকৃত ধারক ও বাহক। এসব পরীক্ষিত নেতাকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস কিংবা নেতৃত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারলেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব, এমন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
তাঁরা আরও বলেন, “দেশের কোনো তরুণ জাতীয়তাবাদী নেতা যেন ভবিষ্যতে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হয়ে কারাবরণ না করেন, সে জন্য এখনই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। একজন নিরপরাধ ও ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীর কারাবাস শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়; এটি ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক অধিকারের ওপরও আঘাত।”
মানববন্ধন থেকে গালিব ইমতিয়াজ নাহিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “গালিব ইমতিয়াজ নাহিদকে অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতৃবৃন্দসহ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর, কঠোর ও জোরালো আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁর মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব; সাবেক ছাত্রদল নেতা সালাউদ্দিন (সাকা), ফেরদৌস আলম অপু, শরিফুল ইসলাম সাইফুল, নাজমুল হক ও মির বিটু; আজমল হোসেন তমাল, যুগ্ম আহ্বায়ক; তরিকুল ইসলাম শামীম, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক (অ. ফ. ম. কামাল উদ্দিন হল); বেনজির আহমেদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (মাওলানা ভাসানী হল) ও আহ্বায়ক সদস্য, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ঢাকা জেলা; এবং মোজাহের উদ্দিন হীরা, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (শেরে বাংলা হল)।
এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা, শফিকুল ইসলাম শফিক, নাইমুল হাসান কৌশিক, মুহিবুল্লাহ মুহিব ও রফিকুল ইসলাম, এবং সদস্য জাহিদ হাসান (সঞ্চালক), মো. হাসান, এস. এম. তানিম হাসান, মো. সাজ্জাদউল ইসলাম, পিয়াস আহম্মেদ শিশির, সিয়াম আহম্মেদ ও মাহাদী হাসান তরু উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে সাভারের চাপাইন রোডের তালতলা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গালিব ইমতিয়াজ নাহিদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানে নাহিদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১৩টি দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁকে একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে সেনাবাহিনী জানায়, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


