https://daynightbd.com


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মারধর, হেনস্তা ও কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে না আসার হুমকি দেওয়া এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ও তিন কর্মকর্তাকে হেনস্তা এবং তাদের কক্ষ ও অফিস ভাঙচুর করেন বলে জানা যায়।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার কক্ষে গিয়ে ভাঙচুর ও তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদকে ক্যাম্পাসে না আসার হুমকি দেওয়া ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। এরপর টিএসসিসির সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদকে হেনস্তা ও তার টেবিল ভাঙচুর করা হয়।
পরে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে সহযোগী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেরার পথে বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের কক্ষে তাকে হেনস্তা, কক্ষ ভাঙচুর এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের ক্যাম্পাসে না আসারও হুমকি দেন।
শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা ও কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত নেতাকর্মীরা হলেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয়, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং কর্মী রাহি, সাবিক, উল্লাস মাহমুদ, নাঈম, সিজান ও সাগর আলী এবং কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুক্তাদির আহমেদসহ প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী।
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা লুনা বলেন, ‘আমার কক্ষে এসে তারা এই ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। পাশাপাশি যাওয়ার সময়ে তারা আমার কিছু শিক্ষার্থীকেও মারধর করেছে। আমি বিষয়টিকে প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি।’
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, দুপুরের সময় আমি অফিসে বসে ছিলাম। তারা হঠাৎ এসে বলে যে তুই মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না। এরপর তারা আমার দিকে একটা প্লেট ছুড়ে মারে এবং মারতে উদ্যত হয়। হুমকি-ধামকি শেষে তারা চলে যায়।
অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর যেহেতু এই বিভাগের এবং প্রক্টরের আমার ছাত্র সেহেতু তিনিই এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, গতকাল ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা রুখে দিতে ছাত্রদল প্রস্তুত ছিল। আজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অফিসে গিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফ্যাসিজম কায়েমের চেষ্টাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছে। যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে আমরা সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে প্রয়োজনে আমরা আইন হাতে তুলে নেব। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে আমাদেরই আইন হাতে তুলে নিতে হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে মিটিং করছি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা বিষয়টিতে ভুল স্বীকার করেছে। আমি আশা করছি তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আইন রয়েছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার ওপর চড়াও হতে পারে না। ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কেউ পোস্ট দিয়ে থাকলে এবং তা প্রমাণিত হলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


