https://daynightbd.com


প্রতীকী ছবি ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানুষের জীবনকে যেমন সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলছে, তেমনি এর অপব্যবহার তৈরি করছে নতুন ধরনের সাইবার অপরাধ। আগে যেখানে প্রতারণার প্রধান মাধ্যম ছিল ভুয়া ফোনকল, এসএমএস কিংবা ফিশিং লিংক, এখন সেখানে যুক্ত হয়েছে ডিপফেক ভিডিও, কৃত্রিম কণ্ঠস্বর (ভয়েস ক্লোনিং) এবং এআই-নির্ভর ভুয়া ছবি। ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও পড়ছেন নতুন ধরনের প্রতারণার ফাঁদে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচিত ব্যক্তি, স্বজন কিংবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কণ্ঠস্বর ও চেহারা হুবহু নকল করে ভুয়া অডিও-ভিডিও তৈরি করছে। এরপর জরুরি আর্থিক প্রয়োজন, ব্যবসায়িক লেনদেন, দুর্ঘটনা কিংবা ব্যক্তিগত সংকটের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করেই এসব ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তির উন্নতির কারণে আসল ও নকল ভিডিও কিংবা অডিও আলাদা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে পরিচিত মানুষের কণ্ঠস্বর বা ভিডিও দেখে অনেকেই সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
রাজধানীর এক ব্যবসায়ী জানান, পরিচিত একজনের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে হুবহু মিল থাকা একটি ফোনকল পেয়ে তিনি জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠানোর অনুরোধ পান। তবে সন্দেহ হওয়ায় সরাসরি ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, এমন কোনো ফোন তিনি করেননি।
আরেক ভুক্তভোগী তরুণী জানান, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করে একটি চক্র তার কাছে অর্থ দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বর প্রকাশের সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা এসব প্রতারণা চালাচ্ছে। তাই কোনো ফোনকল, ভিডিও বার্তা বা অডিও শুনেই অর্থ লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। পরিচয় নিশ্চিত করতে বিকল্প মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই-নির্ভর প্রতারণার ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। ডিপফেক শনাক্তকরণ, সাইবার তদন্ত এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে এ ধরনের অপরাধ দ্রুত শনাক্ত ও তদন্ত করা সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হলেও এর অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে সতর্ক হওয়া এখন সময়ের দাবি। পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে অর্থ লেনদেন না করা এবং সন্দেহজনক ঘটনায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়াই এ ধরনের প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


