https://daynightbd.com


প্রতীকী ছবি ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
দ্রুত লাভের আশায় অনলাইন বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। ক্রিপ্টোকারেন্সি, ফরেক্স ট্রেডিং ও বিভিন্ন অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্মের নামে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পরে ভুয়া প্ল্যাটফর্ম, নকল অ্যাপ এবং সাজানো লাভের হিসাব দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারকরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অল্প সময়ে দ্বিগুণ বা কয়েক গুণ লাভের আশ্বাস দিয়ে তাদের নির্দিষ্ট একটি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করা হয়।
প্রথম দিকে অল্প পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে কৃত্রিমভাবে লাভ দেখানো হয়। এতে বিনিয়োগকারীর আস্থা তৈরি হলে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে বিভিন্ন ফি, কর, অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন বা নিরাপত্তা চার্জের নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। পরে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ হয়ে যায় অথবা প্রতারকরা সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
সাইবার অপরাধ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, অনলাইন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারকরা মানুষের দ্রুত লাভের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগায়। ভুয়া ওয়েবসাইট, নকল অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করে তারা সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
রাজধানীর এক ব্যবসায়ী জানান, প্রথমে অল্প টাকা বিনিয়োগ করে নিয়মিত লাভ দেখানো হয়। পরে বেশি লাভের আশায় তিনি বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেন। কিন্তু টাকা তুলতে গেলে নানা অজুহাতে আরও অর্থ দাবি করা হয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন, পুরো বিষয়টিই ছিল একটি প্রতারণার ফাঁদ।
আরেক ভুক্তভোগী তরুণ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে একটি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। কয়েক সপ্তাহ ধরে লাভ দেখানো হলেও পরে আর কোনো অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি। এরপর প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব চক্র অনেক সময় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নাম, ভুয়া ট্রেডিং কোম্পানি, নকল বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল মুদ্রার নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে। অর্থ লেনদেনের জন্য তারা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে থাকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি, অপরিচিত ব্যক্তির বিনিয়োগের প্রস্তাব কিংবা যাচাইহীন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে অর্থ বিনিয়োগের আগে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্মের বৈধতা নিশ্চিত না হয়ে অর্থ লেনদেন করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণাও আরও সংগঠিত হচ্ছে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই, আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা এবং প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়।


