• শিরোনাম

    সুপার-সমকাল অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

    পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ভূমিকম্প সহনীয় দেশ গড়া হবে

    নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০২৩ | পড়া হয়েছে 49 বার

    পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ভূমিকম্প সহনীয় দেশ গড়া হবে

    ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ও ১০০ বছরের অধিক পুরানো ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে ভেঙ্গে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, বিল্ডিং কোড ছাড়া নতুন করে কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় নতুন করে ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ করা হবে। অন্ততঃ ৫০ বছরে হলেও যেন বাংলাদেশ ভূমিকম্প সহনীয় দেশে পরিণত হয়, সে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

    বুধবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ‘সুপার-সমকাল আর্থকো‌য়েক অ‌্যান্ড ফায়ার প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প সহনীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গড়তে আমরা কাজ করছি। এক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দূর্যোগের ঝুঁকি কমানোর সুফল আমরা পাচ্ছি। ইতোমধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পোশাক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ৮টি জোনে ভাগ করে ঢাকাকে ভূমিকম্প সক্ষমতা তৈরি করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। জাইকার সহযোগিতায় ভূমিকম্প সহনীয় ভবনের উপর সার্ভে করা হয়েছে। জাপান সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকি হ্রাসে পুরাতন ভবন ভাঙ্গা হবে। এর জায়গায় জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা সহযোগিতায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এজন্য বেসরকারিভাবে প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া হবে। শুধু ভবন নয়, ভূমিকম্প সহনীয় নতুন সব ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

    প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ভূমিকম্প মোকাবেলায় আসলে আমাদের খুব বেশি সক্ষমতা নেই। ভূমিকম্প কি ধরণের ক্ষতি হয়েছে তা তুরস্কে ও সিরিয়ায় আমরা দেখেছি। হাজার হাজার বাড়ি ঘর ধ্বংস হয়েছে। তুরস্কের মতো দেশ ভূমিকম্পের ক্ষতি সামাল দিতে পারেনি। ভূমিকম্প মোকাবেলায় এখনও পর্যাপ্ত সক্ষতা অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হবে, ৫ লাখ মানুষ হতাহত হবে। ১ লাখ ৭২ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হবে। জাপানের মতো দেশের ভূমিকম্প সহনীয় দেশে পরিনত করতে ৩০ বছর লেগেছে।

    সেখানে আমরা চেষ্টা করছি অন্তত ৫০ বছরে হলেও যেন বাংলাদেশ ভূমিকম্প সহনীয় দেশে পরিণত করা যায়। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সাফল্যের জন্য আমাদের অর্জন আছে। অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আমরা শতভাগ সফল। আমরা ৪২০ কোটি টাকার উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজের উপকরণ কিনেছি। সেগুলো ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন ও সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তুতিতে উৎসাহিত করতে তিন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের জন্য তিন সাংবাদিককে ‘সুপার-সমকাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ দেওয়া হয়।

    পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলো- ওয়ালটন হাইটেক ইন্ড্রাস্টি, ব্র্যাক ব্যাংক ও এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেড। তিন সাংবাদিক হলেন, জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানা, সময় টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মার্জিয়া হাশমী মুমু, নিউ এইজ পত্রিকার স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাশেদ আহমেদ।

    স্ট্রেংদেনিং আরবান পাবলিক প্রাইভেট প্রোগ্রামিং ফর আর্থকোয়েক রেজিলিয়েন্স (সুপার) প্রকল্প একটি কনসোর্টিয়াম প্রকল্প। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সিভিল প্রটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইডের (ইকো) আর্থিক সহযোগিতায় সুপার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (ডিসিসিআই), ইউনাইটেড পারপাস এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।

    অনুষ্ঠানে সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, ইউনাইটেড পারপাসের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীরামাপ্পা গণচিকারা, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের সুপার প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার আ ম নাছির উদ্দিন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পরিচালক (হিউম্যানিটেরিয়ান ইমার্জেন্সি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটেশন) দোলন যোশেফ গোমেজসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৫:১৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০২৩

    daynightbd.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯