ঢাকা
২৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
‎মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নেপালে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৫৭ সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ কয়েকশ পর্যটক কবি নজরুল কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ঝালকাঠির ১২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, শূন্য সহকারী শিক্ষকের ২৮৭ পদ জাকসুর উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠিত মহানবী (সা.)-এর আদর্শ তরুণদের জন্য হতে পারে প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার কবি নজরুল কলেজে ‘শ্রাবণ বরণ’ ঘনঘটা অনুষ্ঠিত
Advertise with us

খালিস্তানপন্থিদের দমনে ভারতের ‘পুরোনো কৌশল’, আতঙ্কে শিখরা

ডে নাইট ডেস্ক
বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩   ৫১ বার পঠিত
খালিস্তানপন্থিদের দমনে ভারতের ‘পুরোনো কৌশল’, আতঙ্কে শিখরা

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের একটি শহর সারে। শিখ সম্প্রদায়ের বহু মানুষের বসবাস সেখানে। সারে শহরের গুরুদুয়ারা মন্দিরে চলছিল গটকা প্রতিযোগিতা। এটা এক ধরনের মার্শাল আর্ট। তুমুল আক্রোশে তলোয়ার ও লাঠি হাতে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন প্রতিযোগীরা। চারপাশে উৎসাহী মানুষের ভিড়। গটকা প্রতিযোগিতার দিন মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন গুরকিরাত সিং। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি বিদ্রোহী সম্প্রদায়। তরুণ বয়স থেকে আমরা সন্তানদের কাছে অস্ত্র রাখার এবং নিজেকে রক্ষা করার কৌশল শিখিয়ে দিই।’
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে শিখদের জন্য খালিস্তান নামে স্বাধীন একটি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে সরব ছিলেন হরদীপ সিং। চার দশক ধরেই এ নিয়ে আন্দোলন করছেন শিখ সম্প্রদায়ের অনেকে। এর জেরে হরদীপসহ বিদেশে অবস্থান করা অনেককে সন্ত্রাসী তকমা দিয়েছে ভারত।
গত জুনে সারে শহরে হত্যার শিকার হন বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর। এরপর থেকে শহরের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আত্মরক্ষার কৌশল শেখার প্রবণতা বেড়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া গুরুদুয়ারা কাউন্সিলের মুখপাত্র মনীন্দ্র সিংয়ের (৪২) ভাষায়, পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘এখন বিষয়টা আর এমন নেই যে আপনাকে আরেক দিন বাঁচার জন্য লড়াই করতে হবে। কারণ তারা (ভারত) যেভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে, আপনি জানেনই না আদৌ আর বাঁচবেন কি না। তাই হরদীপ হত্যাকাণ্ড অবাক করে দেওয়ার মতো কিছু ছিল না।’১৯৯৭ সালে পাঞ্জাব থেকে কানাডায় পাড়ি জমান হরদীপ। তিনি ছিলেন গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারার প্রেসিডেন্ট। শিখ সম্প্রদায়ের অনেকেই মনে করেন, তাকে হত্যার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে। এরই মধ্যে গত সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডে নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকার দাবি করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। প্রতিক্রিয়ায় ভারত ও কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। দুই দেশই পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেয়। থমকে যায় দুই দেশের বাণিজ্যিক আলাপ-আলোচনা। এমনকি সাময়িক সময়ের জন্য কানাডার নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখে ভারত। এরই মধ্যে গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তোলে, নিউইয়র্ক শহরে অবস্থান করা শিখ নেতা গুরপাতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ভারতের গোয়েন্দা বাহিনী সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি। এরপর থেকে সন্দেহ আরও বাড়ে বিদেশে থাকা শিখ নেতাদের হত্যায় ঘাতক বাহিনী নিয়োগ দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে বরাবরই তা অস্বীকার করেছে ভারত।
এদিকে হরদীপ সিং হত্যার ছয় মাস পর সম্প্রতি সারে শহরের অনেক শিখ নেতা জানিয়েছেন, তাদের অনেককেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অনেককে এ নিয়ে সতর্ক করেছেন কানাডার সরকারি কর্মকর্তারা। তবু শিখ সম্প্রদায়ের অনেকেই বলছেন, যাই হোক না কেন, তাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না।
কানাডায় ৭ লাখ ৭০ হাজার শিখ বসবাস করেন। ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে সম্প্রদায়টির এত সদস্য থাকে না। এই শিখদের অনেকের পরিবারই গত শতকের আশির দশকে ভারত থেকে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সে সময় পাঞ্জাবে খালিস্তান আন্দোলনের সমর্থকদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চালাচ্ছিল ভারত সরকার। এমনকি শিখ আন্দোলনকারীদের অনেককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগও উঠেছিল।
১৯৮৪ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরে শিখ তীর্থস্থান স্বর্ণমন্দিরে ট্যাঙ্ক নিয়ে অভিযান চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। তাদের লক্ষ্য ছিল, মন্দিরে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ওই অভিযানে অনেক মানুষ নিহত হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন তীর্থযাত্রীরাও। এর চার মাস বাদে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করে তার দুই দেহরক্ষী। এরপর রাজধানী নয়াদিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শিখদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। নিহত হয় হাজার হাজার শিখ।
আজ অনেকে মনে করছেন, আশির দশকের মতোই শিখদের ওপর আবার হামলা চালাচ্ছে ভারত সরকার। সেবার হয়েছিল ভারতে। আর এবার কানাডায়। মনীন্দ্র সিং বলেন, আমাদের মুখ বন্ধ রাখতে তারা (ভারত সরকার) মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর জন্য তারা আমাদের হত্যাও করতে পারে। এই একই কৌশল পাঞ্জাবে কাজে লাগানো হয়েছিল।
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ
SuMoTuWeThFrSa