ঢাকা
২৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
‎মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নেপালে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৫৭ সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ কয়েকশ পর্যটক কবি নজরুল কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ঝালকাঠির ১২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, শূন্য সহকারী শিক্ষকের ২৮৭ পদ জাকসুর উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠিত মহানবী (সা.)-এর আদর্শ তরুণদের জন্য হতে পারে প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার কবি নজরুল কলেজে ‘শ্রাবণ বরণ’ ঘনঘটা অনুষ্ঠিত
Advertise with us

গাজায় চোখ রাঙাচ্ছে নাকাবা ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর জায়নবাদীরা!

ডে নাইট ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩   ৪৩ বার পঠিত
গাজায় চোখ রাঙাচ্ছে নাকাবা ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর জায়নবাদীরা!

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ৮১তম দিন আজ। আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরাইলি সেনাদের নৃশংস অভিযানে ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে ২০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক ফিলিস্তিনি। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি। ক্রমেই ভয়ানক হয়ে ওঠা ইসরাইলি সেনাদের হামলা ও অভিযানে প্রতিদিনই ভেসে আসছে শতাধিক প্রাণহানির খবর। কোনোরকম একবেলা খেয়ে না খেয়ে কাটাতে হচ্ছে অবরুদ্ধ উপত্যকার বাসিন্দাদের। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, তা হার মানিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নাকাবাকেও। ১৯৪৮ সালে পশ্চিমা মদদে ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে স্থায়ীভাবে ভিটেমাটির মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি। ৬ যুগ পর এসে এবার যেন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মার্কিন প্রত্যক্ষ মদদে এবার আরও ভয়ংকর দখলদার ইসরাইল। সরাসরি গাজাকে মানবশূন্য ভূখ-ে পরিণত করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে জায়নবাদী নেতারা। হামাস উৎখাতের নামে চলমান নৃশংসতার মুখে চোখ রাঙাচ্ছে আরও একটি ‘নাকাবা’।
মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন সরাসরিই বললেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে অপসারণের বিষয়ে কাজ করছেন তিনি। খবর দৈনিক ইসরাইল হায়োমের। লিকুদ পার্টির বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছাসেবী অভিবাসনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি দল গঠন করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে যারা গাজা ছেড়ে তৃতীয় কোনো দেশে যেতে চায় তারা তা করতে পারে। এটি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
ইসরাইলের সামরিক কৌশল দেখে অবশ্য মনে হচ্ছে যে গাজাকে ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য করে তোলার জন্য সবকিছু ধ্বংস করছে তারা, যেন জীবন বাঁচানোর জন্য ফিলিস্তিনিরা স্বেচ্ছায় চলে যায় ভূখ- ছেড়ে। বিষয়টি স্পষ্ট হয় একই দিন প্রকাশ হওয়া নেতানিয়াহুর আরেকটি বক্তব্যে। যত ধরনের চাপই আসুক না কেন, শিগগিরই ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে না ঘোষণা করে মার্কিন মদদপুষ্ট রাষ্ট্রটির প্রধানমন্ত্রী সেখানে বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার আগে অবশ্যই ফিলিস্তিনি সমাজকে ধ্বংস করতে হবে।’
গাজাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলি সংসদ নেসেটের প্রাক্তন এক সদস্যও। সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জায়নবাদী ওই নেতা বলেন, ‘গাজায় সবাই সন্ত্রাসী, কুকুরের ছেলে। তাদের অবশ্যই শেষ করতে হবে, তাদের সবাইকে হত্যা করতে হবে। গাজাতে সব ধ্বংস করে দিতে হবে, ফিলিস্তিনিদের ধূলিকণাতে পরিণত করতে হবে। সেনাবাহিনী এলাকাটিকে পরিষ্কার করবে। তারপর আমাদের নিরাপত্তার জন্য নতুন এলাকা তৈরি করা শুরু করব।’ ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির এক বিবৃতি অনুসারে, সোমবার গাজা পরিদর্শন করার পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আমরা আগামী দিনে লড়াইকে প্রসারিত করছি এবং এটি একটি দীর্ঘ যুদ্ধ হবে।’
নেসেটে নেয়ানিয়াহুর এমন বক্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়ে হামাসের কাছে জিম্মি ইসরাইলিদের পরিবারগুলো। তেল আবিবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরের কাছে ব্যানার-পোস্টার নিয়ে জড়ো হয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘আমাদের জিম্মিদের এখনই মুক্ত করুন, যেকোনো মূল্যে।’
ইসরাইলকে ২৩০টি কার্গো বিমান ও ২০টি জাহাজ বোঝাই অস্ত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র : গত ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলের জন্য ২৩০টি কার্গো বিমান ও ২০টি জাহাজে করে প্রায় ১০ হাজার টন অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, গাজা উপত্যকায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৫ বিলিয়ন শেকেল অর্থাৎ ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে ইসরাইলের, যার সিংহভাগ এসেছে মার্কিন সহায়তা থেকে। গাজায় আগ্রাসন পরিচালনায় ইসরাইলের পেছনে যে মার্কিন মদদ, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।
আগ্রাসনের ৮১ দিনে ২০ হাজার ৬৭৪ ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ৫৪ হাজার ৫৩৬ : অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও অন্তত ২৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৫শরও বেশি বাসিন্দা। এর মধ্যে আল-মাগাজি নামের একটি শরণার্থী শিবিরেই নিহত হয়েছেন শতাধিক ফিলিস্তিনি। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় হামলা আরও জোরদার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় তারা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলি আগ্রাসনের ৮১ দিনে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ২০ হাজার  ৬৭৪ ফিলিস্তিনি নাগরিক, যাদের ৭০ ভাগই নারী ও শিশু। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে অন্তত ৫৪ হাজার ৫৩৬ বেসামরিক বাসিন্দা। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বলছে, আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে এরই মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি। পক্ষান্তরে ইসরাইলি সামরিক পরিসংখ্যান অনুসারে, ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪৮৯ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে।
গাজা যেন দাবার ঘর, ফিলিস্তিনিরা ঘুঁটি : ইসরাইলি সেনাদের টানা আক্রমণে ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপ গাজা। উপকূলীয় অঞ্চলটিতে ধ্বংস হয়ে গেছে অর্ধেক আবাসনই; খোলা আকাশের নিচে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাকে  ‘মানব দাবার বোর্ড’ বলে আখ্যায়িত করেছেন জেমা কনেল নামে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওচার এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গাজা যেন এখন দাবার ঘর আর ফিলিস্তিনিরা ঘুঁটি। যেখানে হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই বহুবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, আবার পালিয়ে যাচ্ছে এবং জীবন রক্ষার জন্য যেখানে যাচ্ছে তাও নিরাপদ হবে কি না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সোমবার মধ্যগাজার আল-আকসা হাসপাতালে যা দেখেছিলেন তাকে ‘পরম হত্যাকা-’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক লোকের সঙ্গে কথা বলেছি। এখানে এত কম জায়গা বাকি আছে যে লোকেরা ঠিক জানে না তারা কোথায় যাবে। সত্যিই মনে হচ্ছে মানুষ একটি মানব দাবা বোর্ডের এক ঘর থেকে আরেক ঘরে ঘুরছে; কারণ যেখানেই যাচ্ছে উচ্ছেদের আদেশ আসছে।
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ
SuMoTuWeThFrSa