https://daynightbd.com


সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় আবার চমক দেখালেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কারাগারে বসেও নিজের সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন রাজনীতিতে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ করে ফেললেন লেখা।
মূলত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের একটি লেখা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট। ওই লেখার বিষয়বস্তু ও সুর ছিল হুবহু ইমরানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাতেই শুরু হয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে, কারাগারে থাকা ইমরান কীভাবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে লেখা প্রকাশ করতে পারেন।
বিতর্কের মুখে মুখ খুলেছেন ইমরান। জানিয়েছেন, এটা আসলে তার লেখা নয়। বরং লেখাটি লিখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বিভিন্ন সময় যারা কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তাদের নিবন্ধটির মূল বিষয় নিয়ে বলেছিলেন তিনি। পরে তাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শব্দ বসানো হয়েছে।
ইমরান এখন আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন। সেখানেই আদালত বসিয়ে তার বিচার চলছে। সোমবার কয়েকজন সাংবাদিককে কারাগারের ভেতরের সেসব কার্যক্রম দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। তারা ইমরানের সঙ্গেও কথা বলেন। আর তখন ইমরান জানান, ইকোনমিস্টে প্রকাশিত লেখাটি তার নামে ছাপা হলেও তিনি লেখেননি। তবে লেখার বিষয়ে তিনি জানেন। তার বলে দেওয়া মূল বিষয় ধরে তাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শব্দ বসানো হয়েছে।
ইমরান খানের নামে প্রকাশিত লেখাটিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত নাও হতে পারে। তারপরও যদি নির্বাচন হয়, ‘বিপর্যয় ও প্রহসন’ হবে। কেননা, তার দল পিটিআইকে নির্বাচনি প্রচারকাজ চালানোর মতো মৌলিক অধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে ইকোনমিস্টে ছাপা হওয়া লেখাটি নিয়ে সরব হয়েছে পাকিস্তানের প্রশাসন। গতকাল দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্যমন্ত্রী মর্তুজা শোলাঙ্গী বলেন, ‘কারাগারে বসে কেউ নিবন্ধ কিংবা বই লিখতে পারবেন না, বিষয়টা এমন নয়। আমাদের আপত্তি হলো, পিটিআইয়ের সাবেক প্রধান ওই লেখা লেখেননি।’
তথ্যমন্ত্রী মর্তুজা আরও বলেন, কারাগার থেকে কোনো সংবাদমাধ্যমে এমন কোনো কন্টেন্ট ‘ফাঁস’ হয়নি। পিটিআইয়ের সাবেক চেয়ারম্যানের নামে ‘ভুতুড়ে লেখা’ ছেপেছে ইকোনমিস্ট।
গত বৃহস্পতিবার ইকোনমিস্টে ইমরানের নামে ওই লেখাটি প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর প্রকাশনাটির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে লেখাটি সাতবার পোস্ট করা হয়। পোস্টগুলো আড়াই কোটিবারের বেশি দেখা হয়েছে।


