https://daynightbd.com


সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সের সরকারে বড় ধরনের রদবদলের খবর চাউর হয়েছে সম্প্রতি। চলতি বছরের জুনের দিকে ইউরোপীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার শীর্ষ দলে রদবদল করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল। সে অনুযায়ী বছরে শুরুতেই চোখে পড়ছে সেই রদবদল, যার শুরুটা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে। মাত্রই দুদিন আগে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বোর্নে। সোমবার এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘বোর্ন দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তার কাজে সাহস, প্রতিশ্রুতি এবং সংকল্প দেখিয়েছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করলেন বোর্নে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বেশ হিমশিম খেয়েছেন তিনি। বোর্নে হলেন ফ্রান্সের দ্বিতীয় নারী, যিনি এত বেশিদিন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্রান্সের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এডিথ ক্রেসন। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঁসোয়া মিটাররান্ড।
এদিকে বোর্নের স্থলাভিসিক্ত হয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আট্টাল। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন আট্টাল। আগামী জুনে ইউরোপিয়ান সংসদে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী আট্টাল। ফ্রান্সের রাজনীতিতে তার উত্থান খুব কম সময়ের মধ্যে হয়েছে। ১০ বছর আগেও ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অপরিচিত এক উপদেষ্টা ছিলেন তিনি।
গ্যাব্রিয়েল আট্টাল ২০১৭ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদে বিতর্কের ক্ষেত্রে বেশ পটু ছিলেন তিনি। আর এ গুণের কারণে ম্যাক্রোঁর নজর কাড়তে সমর্থ হন তিনি। ২৯ বছর বয়সে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ছোট পদের দায়িত্ব পান তিনি। ২০২০ সাল থেকে ফরাসি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে আসছেন তিনি।
আরও তিন বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ম্যাক্রোঁ। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি এবং আইনি পরাজয়ের কারণে ধারাবাহিকভাবে যে বিক্ষোভ হয়েছে তাতে তার সরকারের অবস্থানকে আরও জোরালো করলে কিছু সংশোধন আনা প্রয়োজন।
গত ডিসেম্বরে অভিবাসন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বড় ধরনের পরাজয়ের সম্মুখীন হয়। এই ঘটনাকে ম্যাক্রোঁ সরকারের জন্য ব্যাপকভাবে সংকটের মুহূর্ত হিসেবেই দেখা হয়েছে। তবে ডানপন্থি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে ছাড় দেওয়ার পর ওই আইন শেষ পর্যন্ত পাস করা সম্ভব হয়। তবে ম্যাক্রোঁর দল এখনও ইউরোপীয় ভোটে একটি শক্তিশালী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


