https://daynightbd.com


সংগৃহীত ছবি
ইরান-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় অশান্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এই মুহুর্তে প্রায় তিনটি বড় যুদ্ধ চলছে, এর ভেতর ইরান-পাকিস্তানের এই পাল্টা হামলার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত এই পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। দেশগুলোর নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে তাদের মনোভাব।
পাকিস্তানে হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের কড়া সমালোচনা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার সাংবাদিকদের বলেছেন, একদিকে ইরান সন্ত্রাসবাদের মদদ দিচ্ছে, অন্যদিকে তারা সন্ত্রাসবাদ দমনে এসব পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করছে। এছাড়া পাকিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তেহরান তার তিন প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌম সীমানা লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। দেশটি দু’পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনে চীনের মধ্যস্থতার ইচ্ছা প্রকাশ করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, ইরান ও পাকিস্তান উভয়েরই এমন পদক্ষেপ এড়ানো উচিত যা উত্তেজনা বৃদ্ধি করে সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তিনি দুই দেশকে জাতিসংঘের সনদ, মূলনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আদর্শকে মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি আশা করি ইরান ও পাকিস্তান আলোচনায় বসবে এবং আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান করবে।
অন্যদিকে ইরান-পাকিস্তানের মধ্যকার এ দ্বন্দ্বে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ভারত। তারা বলছে, এটি দুই প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ বিষয়। এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, এটি ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিষয়। তবে, ভারত সন্ত্রাসবাদের প্রতি সবসময়ই আপসহীন ও শূন্য সহনশীল নীতি মেনে চলে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আপাতদৃষ্টিতে ইরানের এই পদক্ষেপটিকে ভারত ন্যায্য বলে মনে করে। কারণ প্রতিটি দেশ তাদের ‘আত্মরক্ষার’ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার আছে।
উল্লেখ্য, ইরানে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) চালানো পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে চালানো ইরানের হামলায় নিহত হয় দুই জন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালে ইরাক ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটল।


