দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
জন্মের পর থেকেই তিনি শব্দহীন এক পৃথিবীতে বসবাস করছেন। না বলতে পারেন, না শুনতে পান। কিন্তু জীবনের এই নীরবতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল তার জন্য। যে ভাইদের কাঁধে ভর করে বড় হয়েছেন, যে স্বামীকে জীবনের ভরসা ভেবেছিলেন—তারাই আজ কেড়ে নিয়েছে তার শেষ আশ্রয়টুকু।
ঢাকার দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়া গাংপার এলাকার বাসিন্দা বাকপ্রতিবন্ধী রাহিমা বেগম এখন এক জীবন্ত ট্র্যাজেডির নাম। অভিযোগ উঠেছে—তারই তিন আপন ভাই এবং স্বামী কৌশলে তার ৩.২৫ শতাংশ পৈত্রিক জমি হাতিয়ে নিয়েছেন। যে জমিই ছিল তার মাথা গোঁজার শেষ ঠিকানা।
মিষ্টির প্যাকেটে লুকানো প্রতারণা
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ ফেব্রুয়ারি। সেদিন সকালে ভাইয়েরা আসেন হাতে এক প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন—হয়তো কোনো সুখবর আছে।
কিন্তু না—সেই মিষ্টির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নির্মম প্রতারণা।
ইশারায় রাহিমা বোঝাতে চেষ্টা করেন—তার আঙুলের টিপসই নেওয়া হয়েছে কিছু কাগজে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, সেই টিপসই মানে তার জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারানো।
সন্তানদের চোখে মায়ের নিঃশব্দ কান্না
রাহিমার ছেলে ফয়সাল রনি কাঁপা কণ্ঠে বলেন—“আমার মা কথা বলতে পারেন না, শুনতেও পান না। এই সুযোগটাই নিয়েছে সবাই। আমরা কিছুই জানতাম না। আমার বাবাও আরেকটা বিয়ে করে আলাদা থাকে। এখন আমার মা নিঃস্ব।”
তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন—মায়ের অজান্তেই জমিটি রেজিস্ট্রি করে ফেলা হয়েছে।
আজ সন্তানদের সবচেয়ে বড় কষ্ট—মা কাঁদছেন, কিন্তু তার কান্নার ভাষা নেই। আর তারা অসহায়ের মতো সেই কান্না দেখেই যাচ্ছেন।
আইনি প্রশ্নে জটিলতা, ন্যায়বিচার অনিশ্চিত
আইনজীবীদের মতে, একজন বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা এবং নিশ্চিত সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু এই ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কিনা—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানানো হয়েছে—প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলে দলিল করা সম্ভব। তবে এখন যদি প্রতারণার অভিযোগ ওঠে, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় নেই—যা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং একজন অসহায় পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব এক লড়াই।
নীরব চোখের জল—সমাজের বিবেকের সামনে প্রশ্ন
সরেজমিনে দেখা যায়—রাহিমা বেগম বারবার তার আঙুল দেখিয়ে বোঝাতে চান, কীভাবে তাকে দিয়ে সই নেওয়া হয়েছে। তার চোখ বেয়ে ঝরে পড়া অশ্রু যেন ভাষাহীন এক আর্তনাদ—“আমি জানতাম না… আমার সব নিয়ে যাবে…”
তার এই নীরব কান্না শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়।
অভিযোগ ও পাল্টা দাবি—সত্য কোথায়?
অভিযুক্তরা এটিকে “পারিবারিক সমঝোতা” বলে দাবি করলেও, কেন রাহিমা বা তার সন্তানরা কিছু জানলেন না—তার সঠিক উত্তর মেলেনি।
রাহিমার বোন দাবি করেছেন—সবাই সম্মত ছিল এবং টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—রাহিমা নিজেই বলছেন, তিনি জমি দেননি।
প্রশাসনের কাছে আকুতি—ফিরে পাবে কি ন্যায্য অধিকার?
এখন রাহিমার সন্তানরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন—মায়ের অধিকার ফিরিয়ে আনার আশায়।তাদের একটাই দাবি—“সুষ্ঠু তদন্ত হোক, মায়ের জমি ফেরত চাই।”
শেষ প্রশ্ন
একজন বাকপ্রতিবন্ধী মায়ের নীরব কান্না—এটা কি শুধুই একটি পারিবারিক ঘটনা?নাকি এটি আমাদের সমাজের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি?
রাহিমার চোখের জল কি পৌঁছাবে প্রশাসনের কানে?নাকি নীরবতার আড়ালেই চাপা পড়ে যাবে এক অসহায় মায়ের অধিকার?
বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
daynightbd.com | Desk Report
| Dhaka, Bangladesh শনিবার, ২ মে, ২০২৬ 15th Dhu al-Qi'dah, 1447 | |
| Salat | Time |
|---|---|
| Fajr | 4:03 AM |
| Sunrise | 5:24 AM |
| Zuhr | 11:55 AM |
| Asr | 3:21 PM |
| Magrib | 6:27 PM |
| Isha | 7:48 PM |
| সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র | শনি | রবি |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ||||
| ৪ | ৫ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | |
| ১১ | ১ | ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ |
| ৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ |
| ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | ৩১ |