চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স স্ক্যান না করলে কিংবা মাথায় হেলমেট না থাকলে স্টার্টই নেবে না মোটরসাইকেল। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিরাপদ চলাচলে সহায়তা করবে স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস। সমুদ্রের দূষিত পানি রূপ নেবে সুপেয় পানিতে। আবার পরিত্যক্ত ব্যাটারি ও বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ, আলো এবং গ্রাফাইট। কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও এমনসব উদ্ভাবনী ও বাস্তবমুখী প্রকল্পের প্রদর্শনী বসেছিল গাজীপুরে।
‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (১৪ জুন) গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া। পরে প্রধান অতিথি হিসেবে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
মেলায় প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোতে উঠে আসে সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নানা প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম রকিবুল হাসান। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘সম্ভাবনাময় ও জনকল্যাণমুখী এসব উদ্ভাবনী প্রকল্পের পৃষ্ঠপোষকতায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের দ্বার সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।’
তিনি বলেন, পৃথিবীর বড় বড় সৃষ্টির সূচনা হয়েছে ছোট পরিসর থেকে। আজকের ছোট ছোট উদ্ভাবনী ধারণা ও স্টার্টআপই একদিন বড় রূপ নিয়ে বিশ্বজয় করবে। এসব উদ্যোগই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে হলে তাদের জন্য সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
দিনব্যাপী আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রশংসা করেন অতিথিরা। তাদের মতে, এমন আয়োজন তরুণদের বিজ্ঞানমনস্কতা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্ভাবন, বিজ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ আয়োজন শেষ হয় নতুন সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে। অংশগ্রহণকারীদের বিশ্বাস, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব উদ্ভাবনী উদ্যোগ একদিন জাতীয় উন্নয়ন ও বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



মন্তব্য করুন